গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শিহাব দশম শ্রেণির ছাত্র। সে পরীক্ষায় বার বার অকৃতকার্য হয়। ইদানিং পড়ায় তার কোনো মনোযোগ নেই। এই অবস্থায় তার বাবা মা, শিক্ষক উপদেশ দিলে সে বিদ্রোহ করে। এমনকি বেশ কয়েকবার সে ঘর থেকে পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ক)

    তারুণ্যের বয়সসীমা কত বছর?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক পরিবেশ কীভাবে যুবকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে?

    (2)
  3. গ)

    শিহাবের বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'শিহাবের সমস্যা সমাধানের শুধুমাত্র পরিবারই ভূমিকা রাখতে পারে'— উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে তারুণ্য বা যৌবনারম্ভ কাল বলা হয় (বিভিন্ন মত অনুযায়ী বয়ঃসন্ধিকালের শেষ পর্যায় থেকে তারুণ্য ধরা হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক পরিবেশ যেমন- পরিবার, বিদ্যালয়, সঙ্গী-দল ও পারিপার্শ্বিক সমাজ তরুণদের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও আচার-আচরণকে সরাসরি প্রভাবিত করে। সুস্থ, ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ একজন যুবকের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে; পক্ষান্তরে বিশৃঙ্খল বা নেতিবাচক পরিবেশ ব্যক্তিত্বের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত ও বিপথগামী করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিহাবের বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক ও আবেগীয় জটিলতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ব্যর্থতাজনিত হতাশা। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে শিহাব বয়ঃসন্ধিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক দ্রুত পরিবর্তনের ফলে তীব্র আবেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়ায় তার মধ্যে হীনম্মন্যতা ও পড়াশোনায় অমনোযোগিতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপদেশকে সে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে না পেরে বিরূপ বা বিদ্রোহী মনোভাব দেখাচ্ছে এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ঘর থেকে পালানোর মতো চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'শিহাবের সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র পরিবারই ভূমিকা রাখতে পারে'- উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ নয়, বরং পরিবার ছাড়াও শিক্ষক, সহপাঠী এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

    শিহাবের সমস্যা সমাধানে পরিবারের ভূমিকা অবশ্যই অনস্বীকার্য। পরিবারকে শিহাবের প্রতি সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল ও বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করতে হবে এবং তাকে কোনো প্রকার তিরস্কার না করে মানসিক সমর্থন জোগাতে হবে। তবে একা পরিবারের পক্ষে তার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

    প্রথমত, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শিহাবের পড়াশোনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাকে সহানুভূতির সাথে অতিরিক্ত পাঠদান করতে পারেন এবং তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারেন। দ্বিতীয়ত, ভালো বন্ধুমহল ও সহপাঠীরা তাকে মানসিক স্বস্তি দিতে পারে এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে পারে। প্রয়োজনে একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

    সুতরাং, শিহাবের মানসিক অস্থিরতা ও সংকট নিরসনে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক, সমাজ ও কাউন্সেলরের সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন