অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
শিমুল তার ক্লাসে অর্থনীতির শিক্ষকের নিকট থেকে জানতে পারলো, বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো মূলধনের স্বল্পতা। সে আরও জানতে পারে- নিম্ন মাথাপিছু আয়, জীবনযাত্রার নিম্নমান, দুর্বল অবকাঠামো, সুশাসনের অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি মূলধন গঠনকে বাধাগ্রস্ত করেছে। শিক্ষক ক্লাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উল্লিখিত সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
- ক)(1)
মূলধন কী?
- খ)(2)
মূলধন গঠন সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো কীভাবে মূলধন গঠনকে বাধাগ্রস্ত করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে মূলধন গঠন কীভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের তৈরি যে সম্পদ বা উপাদান যা পুনরায় অধিকতর উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে মূলধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলধন সৃষ্টি বা গঠনের মূল উৎস হলো সঞ্চয়, তাই মূলধন গঠন সঞ্চয়ের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল।
মানুষ তার বর্তমান আয়ের যে অংশ ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখে, তাকে সঞ্চয় বলে। এই সঞ্চিত অর্থ যখন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগে রূপান্তরিত হয়, তখনই নতুন মূলধনী দ্রব্য (যেমন— যন্ত্রপাতি, কলকারখানা ইত্যাদি) তৈরি হয় অর্থাৎ মূলধন গঠিত হয়। সঞ্চয় না থাকলে বিনিয়োগ অসম্ভব, আর বিনিয়োগ না হলে মূলধন গঠিত হয় না। সুতরাং, মূলধন গঠন সঞ্চয়ের পরিমাণের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো মূলধন গঠনের তিনটি প্রধান ধাপকে (সঞ্চয়ের সামর্থ্য, সঞ্চয়ের ইচ্ছা ও সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ) মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সঞ্চয়ের সামর্থ্যের অভাব: বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত কম এবং জীবনযাত্রার মান নিম্ন হওয়ায় আয়ের প্রায় পুরোটাই দৈনন্দিন ভোগব্যয়ে ব্যয় হয়ে যায়। ফলে উদ্বৃত্ত না থাকায় সঞ্চয়ের সামর্থ্য তৈরি হয় না। পাশাপাশি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা সঞ্চয়কে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে।
২. বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব: দুর্বল অবকাঠামো (বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট) শিল্পকারখানা স্থাপনে খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হন।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক বাধা: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সুশাসনের অভাবের কারণে নতুন বিনিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয় এবং উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে চান না।এভাবে আয় ও সঞ্চয়ের স্বল্পতা এবং বিনিয়োগের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে দেশে মূলধন গঠন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাগুলোর আলোকে বাংলাদেশে মূলধন গঠন বৃদ্ধি করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি:
১. আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের আয় ও মাথাপিছু আয় বাড়াতে হবে। মানুষের আয় বাড়লে তাদের সঞ্চয় করার সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে।
২. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আর্থিক ও রাজস্ব নীতি প্রয়োগ করতে হবে, যাতে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং মানুষের প্রকৃত আয় ও সঞ্চয় সুরক্ষিত হয়।
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ ও উন্নত পরিবহন নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে। অনুকূল অবকাঠামো থাকলে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি পাবে।
৪. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন: নতুন শিল্প স্থাপন ও ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াকে দ্রুত এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫. আর্থিক খাতের সংস্কার ও সঞ্চয় আকর্ষণ: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে হবে এবং সঞ্চয়ের ওপর আকর্ষণীয় মুনাফা বা সুদের হার প্রদান করতে হবে যাতে উদ্বৃত্ত অর্থ সঞ্চয়ে উৎসাহিত হয়।উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং বাংলাদেশে মূলধন গঠনের হার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও