পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘X’ পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু। তার চেহারা ও অবয়ব অন্য শিশুদের মতো। তার মধ্যে সীমাবদ্ধ কিছু কাজ বা আচরণের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সে অন্যদের তুলনায় একটু বেশি বা কম সংবেদনশীল।
- ক)(1)
দুর্নীতি কী?
- খ)(2)
বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
‘X’ কী ধরনের শিশু? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ‘X’ এর মতো শিশুরা একদিন সম্পদে পরিণত হবে— তুমি কি একমত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করাকে দুর্নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে সমাজে এমন সব ব্যক্তিদের বোঝায় যাদের শারীরিক, মানসিক, ইন্দ্রিয়গত বা সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণ মানুষের তুলনায় ভিন্ন বা বিশেষ যত্ন, শিক্ষা, সহায়ক পরিবেশ ও সেবার প্রয়োজন হয় (যেমন—প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক ব্যক্তি)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘X’ হলো একজন ‘অটিস্টিক’ বা ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে’ আক্রান্ত শিশু।
অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের একটি বিকাশগত বা স্নায়বিক বৈকল্য (Neurodevelopmental disorder)। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক গঠন ও অবয়ব সাধারণত অন্য স্বাভাবিক শিশুদের মতোই হয়ে থাকে। তবে তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক ভাববিনিময় এবং আচরণে সীমাবদ্ধতা ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া তারা আলো, শব্দ, স্পর্শ বা স্বাদের মতো ইন্দ্রিয়গত বিষয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম সংবেদনশীল হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঁচ বছর বয়সী ‘X’-এর চেহারা স্বাভাবিক হলেও তার কাজে নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ইন্দ্রিয়গত কম-বেশি সংবেদনশীলতা লক্ষ্য করা যায়, যা অটিস্টিক শিশুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাই ‘X’ একটি অটিস্টিক শিশু।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত যে প্রয়োজনীয় যত্ন, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে ‘X’-এর মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা একদিন জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।
অটিস্টিক শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং তাদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাদান, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করলে তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ প্রতিভা—যেমন অঙ্কন, সংগীত, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা গণিতে অসাধারণ দক্ষতা লুকিয়ে থাকে।
তাদের অনুকূল পরিবেশ ও উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মেধার বিকাশে সবচেয়ে বড় সহায়ক।
অতএব, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অধিকার সংরক্ষণ ও সঠিক সুযোগ পেলে ‘X’-এর মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা নিজেদের দক্ষ করে তুলে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও