অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি সদ্য স্বাধীন ও উন্নয়নশীল দেশ। দেশটির জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান বাড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, মূলধন গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেকার ও খাদ্য সমস্যার সমাধান, সুষম উন্নয়ন, লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূরীকরণ, বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস ইত্যাদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করে। ফলে দেশটির দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্য বেশ সফলতা পায়।

  1. ক)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দেশটির গৃহীত 'ব্যবস্থাপত্রকে' অর্থনীতির ভাষায় কী বলে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশটির গৃহীত 'ব্যবস্থাপত্র' দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা সফল হয়েছে বলে তুমি মনে করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য দেশের সামগ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহারের যে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, তাকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের মৌলিক ও অবকাঠামোগত রূপান্তর এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়।

    অর্থনীতির কিছু বৃহৎ উদ্দেশ্য যেমন—দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস করা, মানবসম্পদের গুণগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন (বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ কাঠামো ইত্যাদি) স্বল্প সময়ে বা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়। এসব লক্ষ্য অর্জনে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য ১৫ থেকে ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দেশটির গৃহীত 'ব্যবস্থাপত্রকে' অর্থনীতির ভাষায় 'অর্থনৈতিক পরিকল্পনা' বা 'উন্নয়ন পরিকল্পনা' (Economic/Development Planning) বলা হয়।

    উন্নয়ন পরিকল্পনা হলো এমন একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে একটি দেশ তার সীমিত প্রাকৃতিক, মানব ও আর্থিক সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করে সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। উদ্দীপকে সদ্য স্বাধীন দেশটির অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, দারিদ্র্য, মূলধনের স্বল্পতা ও বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য সামগ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সমন্বিত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যে ব্যবস্থাপত্র বা রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে, তা উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল ধারণাকে নির্দেশ করে। উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র সম্পদের অপচয় রোধ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন ও প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দেশটির গৃহীত ব্যবস্থাপত্র বা উন্নয়ন পরিকল্পনা দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত সফল হয়েছে বলে আমি মনে করি।

    একটি উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যে সব কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা প্রয়োজন, উদ্দীপকে দেশটির গৃহীত পরিকল্পনায় সেগুলোর সবকটিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনাটির সফলতার সপক্ষে কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও মূলধন গঠন: প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এবং মূলধন গঠন করে দেশটি শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম করেছে।

    ২. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণ: দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জনগণের আয় বৃদ্ধিতে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের মূল চালিকাশক্তি।

    ৩. খাদ্য সমস্যার সমাধান ও সুষম উন্নয়ন: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।

    ৪. পরনির্ভরশীলতা হ্রাস: বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও লেনদেন ভারসাম্যের প্রতিকূলতা দূর করে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে।

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লেখ রয়েছে—"ফলে দেশটির দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্য বেশ সফলতা পায়।" সুতরাং, একটি সমন্বিত ও কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ফলেই দেশটি দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন অর্জন করতে পেরেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন