জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

X - গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিY- ওজন = 30.00-34.99 kg/m2

  1. ক)

    সিকাম কী?

    (1)
  2. খ)

    গ্লুকোজের গ্লাইকোজেনে রূপান্তর ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    'X' এর কোষগুলোর কাজ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত 'Y' অবস্থাটির জন্য শুধুমাত্র খাদ্যগ্রহণই দায়ী নয়- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিকাম হলো মানবদেহের বৃহদন্ত্রের প্রথম এবং প্রশস্ত থলে-সদৃশ অন্ধ অংশ, যা ইলিয়ামের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার সাথে অ্যাপেন্ডিক্স সংলগ্ন থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের প্রভাবে যকৃত ও পেশিকোষে 'গ্লাইকোজেনেসিস' (Glycogenesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ পলিস্যাকারাইড গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে সঞ্চিত থাকে। এই রূপান্তরের ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে (সাধারণত ৪-৬ mmol/L) বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'X' হলো গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি। পাকস্থলীর মিউকোসা স্তরে অবস্থিত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিতে প্রধানত চার ধরনের কোষ দেখা যায়, যাদের কাজ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. চিফ কোষ বা পেপটিক কোষ (Chief / Peptic cells): এ কোষগুলো গ্যাস্ট্রিক জুসের প্রধান প্রো-এনজাইম বা নিষ্ক্রিয় এনজাইম পেপসিনোজেন এবং প্রোরেনিন ক্ষরণ করে। এই পেপসিনোজেন হাইড্রোক্লোরিক এসিডের উপস্থিতিতে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়ে প্রোটিন পরিপাক সম্পন্ন করে।
    ২. প্যারাইটাল বা অক্সিন্টিক কোষ (Parietal / Oxyntic cells): এ কোষগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HClHCl) ক্ষরণ করে। HClHCl খাদ্যের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। এছাড়াও এ কোষ ক্যাসলের ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে যা ভিটামিন B12B_{12} শোষণে সাহায্য করে।
    ৩. মিউকাস কোষ (Mucous neck cells): এ কোষগুলো পিচ্ছিল ও ক্ষারীয় মিউকাস ক্ষরণ করে পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ প্রাচীরকে পিচ্ছিল রাখে এবং ঘন মিউকাস স্তর তৈরি করে স্ব-পরিপাক ও HClHCl-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রাচীরকে রক্ষা করে।
    ৪. আর্জেন্টাফিন বা এন্টারোএন্ডোক্রাইন কোষ (Argentaffin / G-cells): এ কোষগুলো গ্যাস্ট্রিন নামক লোকাল হরমোন ক্ষরণ করে যা গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' অবস্থাটি হলো BMI ৩০.০০-৩৪.৯৯ kg/m2\text{kg/m}^2, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুসারে 'প্রথম শ্রেণির স্থূলতা' (Class I Obesity) নির্দেশ করে।

    স্থূলতা সাধারণত দেহের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হলে ঘটে, অর্থাৎ ব্যয়িত শক্তির চেয়ে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে দেহে জমা হয়। অতিরিক্ত শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ স্থূলতার অন্যতম কারণ হলেও এটিই একমাত্র দায়ী নয়। নিচে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. বংশগত ও জেনেটিক কারণ: পিতামাতা স্থূলদেহী হলে সন্তানদের স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭০-৮০%। কিছু জেনেটিক মিউটেশনের কারণে লেপটিন হরমোন ঠিকমতো কাজ না করায় ক্ষুধা ও তৃপ্তির ভারসাম্য ব্যাহত হয়।
    ২. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অলস জীবনযাপন: আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডেস্ক জব, অতিরিক্ত টেলিভিশন বা মোবাইল ব্যবহারের ফলে কায়িক পরিশ্রম ও শারীরিক অনুশীলন একেবারেই কমে যায়। খাদ্য গ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও শক্তির ব্যয় না হওয়ায় স্থূলতা সৃষ্টি হয়।
    ৩. অন্তঃক্ষরা বা হরমোনজনিত সমস্যা: হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি), কুশিং সিন্ড্রোম, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) ইত্যাদি রোগ মেটাবলিজমের গতি কমিয়ে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি করে।
    ৪. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ ও হতাশায় কর্টিসল হরমোন বাড়ে এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
    ৫. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, জন্মবিরতিকরণ পিল ইত্যাদি সেবনে ওজন বৃদ্ধি পায়।
    ৬. বয়স ও বিপাকীয় হার: বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহের স্বাভাবিক বিপাকীয় হার (BMR) কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ সত্ত্বেও স্থূলতা দেখা দিতে পারে।

    সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে এটি সুস্পষ্ট যে, 'Y' অর্থাৎ স্থূলতা সৃষ্টির জন্য শুধুমাত্র অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণই দায়ী নয়; বরং বংশগতি, হরমোন, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং বিপাকীয় নানাবিধ কারণের জটিল সমন্বয় দায়ী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন