ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছে দেশের জনগণ লাভজনক বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ, বিল ইত্যাদি বিক্রয় করে। এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেল। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার সকল ব্যাংকের শাখাকে ৪০% কৃষিখাতে ঋণ দেয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করে।
- ক)(1)
নিকাশ ঘর কী?
- খ)(2)
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ম গৃহীত পদক্ষেপ ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন সংখ্যাত্মক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নীতি ব্যবহার করছে তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা বা স্থান, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তাদের মধ্যকার পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের অর্থ জমা রাখে, তাদের প্রয়োজনে ঋণ প্রদান করে এবং তাদের হিসাব ও তহবিল সংরক্ষণ করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে কোনো দেনা-পাওনা হলে বা তারল্য সংকটে পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়। সাধারণ জনগণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে যেরূপ ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রাখে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ঠিক তদ্রূপ সম্পর্ক বজায় রাখে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ম গৃহীত পদক্ষেপটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের সংখ্যাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত 'খোলাবাজার নীতি' (Open Market Operations)-র সাথে সম্পর্কিত।
যে পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ, ট্রেজারি বিল, বন্ড ইত্যাদি ক্রয় বা বিক্রয় করে, তাকে খোলাবাজার নীতি বলে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অলস অর্থ জমলে বা বাজারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণপত্র বিক্রি করে অর্থ তুলে নেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের সঞ্চয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিল বিক্রয় করে এবং এতে ব্যাপক সাড়া পায়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে যায় এবং তাদের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপটি খোলাবাজার নীতিরই যথাযথ প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নীতি ব্যবহার করেছে, তা গুণগত বা বাছনিক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির 'প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা' বা 'ঋণ বরাদ্দকরণ নীতি' (Credit Rationing) হিসেবে অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী।
সাধারণত সংখ্যাত্মক পদ্ধতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু দেশের বিশেষ কোনো সংকটকালে বা নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়নে গুণগত পদ্ধতির প্রয়োগ করে থাকে। ঋণ বরাদ্দকরণ নীতির মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক বা ক্ষতিগ্রস্ত খাতে নির্দিষ্ট হারে ঋণ প্রদান বাধ্যতামূলক করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে উপদ্রুত এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই অঞ্চলের সকল ব্যাংকের শাখাকে মোট ঋণের ৪০% কৃষিখাতে প্রদানের স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন, নতুন ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সহজ শর্তে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক ছিল। ব্যাংকগুলো সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় দুর্যোগপীড়িত কৃষকদের ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বাধ্যতামূলক কোটা নির্ধারণ বা ঋণ বরাদ্দের কারণে কৃষকরা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেতে সক্ষম হবে।
অতএব, দুর্যোগপীড়িত অঞ্চলের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুনির্দিষ্ট ঋণ বরাদ্দ নীতি গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবসম্মত ও যথার্থ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও