যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন মিতভাষী, হাস্যোজ্জ্বল, বিচক্ষণ এবং মেধাবী।

  1. ক)

    বিধেয়ক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে কী ধরনের বিধেয়কের ইঙ্গিত রয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটিতে যে গুণগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তি বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে বিধেয়ক (Predicables) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়; কারণ বিধেয় হলো একটি পদের স্থানগত রূপ যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক হলো সদর্থক যুক্তি বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার এক ধরনের গুণগত সম্বন্ধ। যেকোনো যুক্তি বাক্যে (নঞর্থক বাক্যেও) বিধেয় থাকতে পারে, কিন্তু বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তি বাক্যেই সম্ভব। এছাড়াও একক পদের কোনো বিধেয়ক হয় না, কিন্তু বিধেয় হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে 'ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ' নামক বিধেয়কের ইঙ্গিত রয়েছে।

    যে গুণ কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকে কিন্তু তা তার মূল জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। আর যে অবান্তর লক্ষণ কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, তাকে ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ বলা হয়।

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যে বলা হয়েছে, "কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।" এই জন্মতারিখটি হুমায়ূন আহমেদ নামক একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যা তাঁর জাত্যর্থ (মনুষ্যত্ব) বা এর থেকে নিঃসৃত কোনো গুণ নয়। এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় বহন করে এবং অপরিবর্তনীয় ব্যক্তিগত গুণ। সুতরাং, এটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটিতে হুমায়ূন আহমেদের যে গুণগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো 'মিতভাষী, হাস্যোজ্জ্বল, বিচক্ষণ এবং মেধাবী'। যুক্তিবিদ্যার বিধেয়ক তত্ত্ব অনুযায়ী এগুলো ব্যক্তির 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।

    যে লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মূল সত্তা বা জাত্যর্থের সাথে অপরিহার্যভাবে যুক্ত নয়, বরং তা পরিবর্তনশীল বা পরিস্থিতিভেদে উপস্থিত বা অনুপস্থিত থাকতে পারে, তাকে বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। আর যখন তা কেবল একক কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়, তখন তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলা হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত গুণাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
    ১. 'মিতভাষী' ও 'হাস্যোজ্জ্বল' হওয়া মানুষের সার্বিক বা আবশ্যিক স্বভাব নয়; একজন মানুষ সব সময় বা সব বয়সে একই রকম মিতভাষী বা হাস্যোজ্জ্বল নাও থাকতে পারেন। এটি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
    ২. 'বিচক্ষণ' ও 'মেধাবী' গুণাবলিও জাত্যর্থের অপরিহার্য অংশ নয়, বরং বিশেষ অর্জিত বা পরিবর্তনশীল গুণ। এগুলো কোনো মানুষের মধ্য থেকে বিলুপ্ত হলেও তার মানুষ পরিচয় বজায় থাকে।

    অতএব, উল্লেখিত গুণগুলো হুমায়ূন আহমেদের মনুষ্যত্বের আবশ্যিক লক্ষণ (জাত্যর্থ বা উপলক্ষণ) নয়, বরং এগুলো ব্যক্তিগত পরিবর্তনশীল গুণ বা ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন