যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

পূরবী নামক একটি ট্রেন হঠাৎ করে লাইনচ্যুত হয় এবং যাত্রীসহ ট্রেনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাময়িক ধারণা করা হয়। কেউ হয়তো ষড়যন্ত্র করেছে। এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য সাক্ষ্য, পর্যাপ্ত প্রমাণ ও ঘটনা নিরীক্ষণ করে প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারি বৃষ্টিপাতে লাইনের নিচে গর্ত হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

  1. ক)

    কাজ চালানো প্রকল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'সাময়িক ধারণা' কোন বিষয়ের ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি ব্যবহারিক জীবনে কী গুরুত্ব বহন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পূর্বে কোনো প্রাথমিক বা পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সাময়িক ধারণা গঠন করা হয়, তাকে কাজ চালানো প্রকল্প (Working Hypothesis) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির জটিল ও অজ্ঞাত ঘটনাগুলোর কার্যকারণ সম্পর্ক উদ্ঘাটনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। কোনো ঘটনা যখন ঘটে এবং তার প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানা থাকে না, তখন অনুসন্ধানের একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও তদন্তকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একটি সাময়িক বা আনুমানিক ধারণা গঠন বা প্রকল্প প্রণয়ন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'সাময়িক ধারণা' যুক্তিবিদ্যার 'প্রকল্প' (Hypothesis) প্রত্যয়টির ইঙ্গিত করে।

    কোনো ঘটনার কারণ নির্ণয় করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে যে আনুমানিক বা সাময়িক ধারণা গঠন করা হয়, তাকে যুক্তিবিদ্যায় প্রকল্প বলে। প্রকল্প একটি সম্ভাব্য অনুমান, যা অনুসন্ধানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।

    উদ্দীপকে পূরবী ট্রেন লাইনচ্যুত হলে দুর্ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানার আগেই সাময়িকভাবে ধারণা করা হয় যে "কেউ হয়তো ষড়যন্ত্র করেছে"। তদন্তের শুরুতে এই ধরনের আনুমানিক ধারণা গঠন করাই হলো প্রকল্প। পরে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটির সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। অতএব, উদ্দীপকের 'সাময়িক ধারণা' যুক্তিবিদ্যার প্রকল্পকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি হলো 'প্রকল্প', যা ব্যবহারিক জীবনে ও জ্ঞানার্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অনুসন্ধানের দিকনির্দেশক: ব্যবহারিক জীবনে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে বা কোনো জটিল ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে প্রকল্প প্রাথমিক পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। সঠিক প্রকল্পের অভাবে অনুসন্ধান বিশৃঙ্খল ও লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে ট্রেন দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত কাজ শুরু করা হয়।

    ২. প্রকৃত সত্য ও কার্যকারণ আবিষ্কার: প্রকল্পের মাধ্যমেই আমরা অজ্ঞাত থেকে জ্ঞাতে গমন করি। একটি আনুমানিক ধারণাকে যাচাই-বাছাই ও প্রমাণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়। উদ্দীপকেও প্রাথমিক ধারণার পর পর্যাপ্ত প্রমাণ ও নিরীক্ষণের মাধ্যমেই ভারী বৃষ্টিপাতে লাইনের নিচে গর্ত হওয়ার প্রকৃত কারণটি আবিষ্কৃত হয়েছে।

    ৩. বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি: বিজ্ঞানের প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনেই রয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প। গবেষক প্রথমে প্রকল্প গঠন করেন এবং পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের দ্বারা তা সত্য বা মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়।

    ৪. দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান: কেবল বিজ্ঞান নয়, ব্যবহারিক ও সামাজিক জীবনে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত (যেমন পুলিশি তদন্ত), চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগের কারণ নির্ণয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।

    সুতরাং, বাস্তব জীবনে জটিল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা ও সমাধানের জন্য প্রকল্প একটি অপরিহার্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধিক প্রক্রিয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন