অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘সমষ্টিগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হচ্ছে অর্থনৈতিক কাঠামো। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: উৎপাদনভিত্তিক, মালিকানাভিত্তিক এবং অঞ্চলভিত্তিক। তবে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামো ব্যতীত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হয় না। অর্থনৈতিক অবকাঠামো হচ্ছে একটি দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ।'

  1. ক)

    অর্থনৈতিক কাঠামো কী ?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুকূল ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত খাতগুলোর অধীনে বিদ্যামান উপখাতগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘অর্থনৈতিক অবকাঠামো একটি দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ’- তুমি কি আসাদ সাহেবের এই বক্তব্যের সাথে একমত ? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলি যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত ভিত্তি বা খাতসমূহের সমন্বয়ে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে অর্থনৈতিক কাঠামো বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত উর্বর ও জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় তা কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। নদীমাতৃক ও পললসমৃদ্ধ ভূমি ধান, পাট, চা সহ নানা ফসল উৎপাদনের জন্য উৎকৃষ্ট। এছাড়া মৌসুমি বায়ুর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বিস্তীর্ণ সমভূমি, প্রচুর ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিভাগের পানি সম্পদ এবং সমুদ্র উপকূলীয় অবস্থান অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি প্রধান খাতের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. উৎপাদনভিত্তিক কাঠামো: জিডিপিতে অবদান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি মূলত তিনটি খাতে বিভক্ত—

    • কৃষি খাত: এর প্রধান উপখাতসমূহ হলো শস্য ও শাকসবজি, প্রাণিসম্পদ, বনজ সম্পদ এবং মৎস্য সম্পদ।
    • শিল্প খাত: এর উপখাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসম্পদ ও নির্মাণ খাত।
    • সেবা খাত: এর অন্তর্ভুক্ত উপখাতগুলো হলো পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গৃহায়ন।
      ২. মালিকানাভিত্তিক কাঠামো: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মালিকানা বিবেচনায় এটি সরকারি খাত (Public Sector), বেসরকারি খাত (Private Sector) এবং যৌথ বা পিপিপি (Public-Private Partnership) খাতে বিভক্ত।
      ৩. অঞ্চলভিত্তিক কাঠামো: ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এটি গ্রামীণ অর্থনীতি (মূলত কৃষিনির্ভর) এবং নগর অর্থনীতি (শিল্প ও সেবানির্ভর)-তে বিভক্ত।
      এই উপখাতগুলোর সম্মিলিত অবদানই বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো গঠন করে।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, ‘অর্থনৈতিক অবকাঠামো একটি দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ’—আসাদ সাহেবের এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলতে মূলত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা (সড়ক, রেল, নৌ, আকাশপথ ও বন্দর), টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানিসম্পদ ও সেচ ব্যবস্থার মতো মৌলিক উপাদানগুলোকে বোঝায়। এগুলো প্রত্যক্ষভাবে পণ্য উৎপাদন না করলেও উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল ও বেগবান করে।

    একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরাসরি অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল। যেমন—উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করে ও পরিবহন খরচ কমায়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকলে শিল্প-কারখানা উৎপাদন চালু রাখতে পারে না। আধুনিক বন্দর সুবিধা ও তথ্যপ্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করে। কৃষি খাতের সমৃদ্ধির জন্যও উন্নত সেচ ব্যবস্থা অপরিহার্য।

    অতএব, অবকাঠামো দুর্বল হলে কৃষি, শিল্প কিংবা সেবা কোনো খাতেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয় না। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও গতিশীলতা রক্ষায় অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে ভিত্তিপ্রস্তর বা অর্থনীতির বুনিয়াদ বলা যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন