অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে রপ্তানি শুরু করা শিল্পটিতে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬% অর্জিত হয় এবং প্রায় ৪৪ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে শিল্পটি প্রতিকূল কর্মপরিবেশ, বিশ্ব বাজারে প্রবল প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি সমস্যা দ্বারা জর্জরিত। এ সব সমস্যার সমাধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    রপ্তানিমুখী শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    আমদানি বিকল্প শিল্প কীভাবে দেশকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি চিহ্নিত করো এবং এর সমস্যাসমূহ তুলে ধরো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারের পদক্ষেপসমূহ কী হতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন শিল্প, যা বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশেই ওইসব পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    এ ধরনের শিল্প দেশে গড়ে উঠলে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পপণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এর ফলে একদিকে যেমন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় উদ্যোক্তা ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এভাবে পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পেয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের ‘তৈরি পোশাক শিল্প’ (Ready-Made Garments বা RMG)।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এই শিল্প থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮৬%) অর্জিত হয় এবং প্রায় ৪৪ লক্ষ শ্রমিক এখানে কর্মরত। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ তৈরি পোশাক শিল্পের নির্দেশক।

    উদ্দীপক ও বাস্তবতা অনুসারে এই শিল্পের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. প্রতিকূল কর্মপরিবেশ: অনেক কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং কর্মস্থলের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।
    ২. কাঁচামালের সংকট ও আমদানি নির্ভরতা: এ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তুলা, সুতা, কাপড় ও আধুনিক যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
    ৩. শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি সমস্যা: নিম্ন মজুরি, বকেয়া বেতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগের অভাবে প্রায়ই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ধর্মঘট দেখা যায়।
    ৪. বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা: চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া প্রভৃতি প্রতিযোগী দেশের সাথে গুণগত মান ও মূল্যের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়।
    ৫. অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে সময়মতো পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকার যেসব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং করতে পারে, সে সম্পর্কে আমার মতামত নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ: কারখানার নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সরকারি তদারকি জোরদার করা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলো নিয়মিতভাবে কার্যকর রাখা আবশ্যক।
    ২. ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে স্পিনিং ও উইভিং মিলসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে প্রণোদনা ও কর রেয়াত প্রদান করা প্রয়োজন।
    ৩. নতুন বাজার অনুসন্ধান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত বাজারের বাইরে গিয়ে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো অপ্রচলিত নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা।
    ৪. পণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু মৌলিক সুতি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার) ও উচ্চমূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরিতে নীতিগত সহায়তা প্রদান করা।
    ৫. শ্রমিক কল্যাণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, বাসস্থান এবং তাদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
    ৬. বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, শুল্ক প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

    পরিশেষে বলা যায়, সরকারের উপযুক্ত নীতি সহায়তা, আর্থিক প্রণোদনা এবং মালিক-শ্রমিক-সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং বিশ্ববাজারে এর অবস্থান সুদৃঢ় করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন