পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
B অঞ্চলটি একসময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপনিবেশ স্থাপন করে। ফলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। এ সকল সংকট সমাধানে ঔপনিবেশিক সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। একসময় একটি সম্প্রদায় প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের নেতা জনাব 'R' রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা নিরসনের জন্য একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- ক)(1)
তমুদ্দিন মজলিস কত সালে গঠিত হয়?
- খ)(2)
গণপরিষদ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব 'R' কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাবটি তোমার পঠিত কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জনাব 'R' কর্তৃক প্রেশকৃত কর্মসূচির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচির তাৎপর্য উপমহাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমুদ্দিন মজলিস ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণপরিষদ (Constituent Assembly) হলো এমন একটি বিশেষ প্রতিনিধিসভা, যা কোনো দেশের জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন বা গ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষভাবে গঠিত ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়। কোনো রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর কিংবা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের জন্য নির্বাচিত বা মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সভা কাজ শুরু করে এবং সংবিধান চূড়ান্ত হওয়ার পর এর মূল কাজ সমাপ্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব 'R' কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাবটি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'কে নির্দেশ করে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত B অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের নেতা জনাব 'R' একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে প্রস্তাব দেন। এটি ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে উত্থাপিত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব 'R' কর্তৃক পেশকৃত কর্মসূচি অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের তাৎপর্য উপমহাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী।
লাহোর প্রস্তাবে ব্রিটিশ ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান সংলগ্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট দাবি জানানো হয়। এই প্রস্তাবটি ভারতের রাজনৈতিক গতিপথকে আমূল বদলে দেয়:
১. দ্বিজাতিতত্ত্বের বাস্তবায়ন: লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমেই মুসলিম লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক আবাসভূমির দাবি তোলে, যা পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করে।
২. স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি: লাহোর প্রস্তাবের মূল বয়ানে 'States' বা একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ এক রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাঙালি নেতৃত্ব লাহোর প্রস্তাবের স্বাধিকার ধারণাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে। এই চেতনার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭-পরবর্তী পূর্ব বাংলায় স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, লাহোর প্রস্তাব কেবল একটি প্রস্তাব ছিল না, বরং তা উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির বীজ বপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও