অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মারুফ দীর্ঘদিন যাবৎ জাপানে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দেশে এসেছেন। গ্রামে এসে তিনি একটি বিষয় লক্ষ করলেন, গ্রামের অবস্থা আর পূর্বের মতো নেই। গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে, রঙিন টিভি ও ডিসলাইন এসেছে। মানুষ চায়ের দোকানে বসে চা পানের সাথে সাথে। টিভির বিভিন্ন চ্যানেলের সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আচার- 'অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও ছোটোখাটো ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে মারুফ আনন্দিত ও আশান্বিত।
- ক)(1)
বৈদেশিক সাহায্য কী?
- খ)(2)
কেন অধিক রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন?
- গ)(3)
"সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের এই পরিবর্তনকে অর্থনীতির পরিভাষায় কী নামে চিহ্নিত করা যায়?" তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে এদেশের অর্থনীতিতে বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো উন্নত দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক সহজ শর্তে বা শর্তহীনভাবে প্রদত্ত ঋণ, অনুদান বা প্রযুক্তিগত সহায়তাই হলো বৈদেশিক সাহায্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অধিক রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন।
রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুললে দেশের উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে বিক্রয় করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এটি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে। এছাড়া এ ধরনের শিল্প অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, জাতীয় আয় বৃদ্ধি করে এবং দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের এই পরিবর্তনকে অর্থনীতির পরিভাষায় 'বিশ্বায়ন' (Globalization) এবং 'তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) বিকাশ' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও মানবসমাজ ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে একক বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে পরস্পর সংযুক্ত হয়। এর মূল চালিকাশক্তি হলো আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মারুফের গ্রামে বিদ্যুৎ, রঙিন টিভি, ডিশ সংযোগ এবং ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। চায়ের দোকানে বসে মানুষ সারা বিশ্বের সংবাদ ও সংস্কৃতি দেখছে এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের সাথে ইন্টারনেট দিয়ে যোগাযোগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে। গ্রামীণ পর্যায়ের এই আধুনিকীকরণ ও বৈশ্বিক সংযুক্তি অর্থনীতির পরিভাষায় মূলত বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ ও ছোটোখাটো ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রামীণ পর্যায়ে ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন ব্যাংকিং (এমএফএস) ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক যোগাযোগের উন্নয়ন প্রবাসীদের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।
তৃতীয়ত, কৃষকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, আবহাওয়া বার্তা এবং ফসলের বাজারদর জানতে পেরে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এটি কৃষির আধুনিকীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
পরিশেষে, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ মানুষের মধ্যে সচেতনতা, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যোক্তা মানসিকতা সৃষ্টি করছে, যা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও