জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অন্ধ বিন্দু কি?

    (1)
  2. খ)

    ট্রপিক হরমোন বলতে কি বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে "A" বর্ণিত অংশের গঠন ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত "B" অংশটি মানবদেহের যে কাজটির সহায়তা করে তার কর্মকৌশল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চোখের রেটিনার যে স্থান দিয়ে অপটিক স্নায়ু বের হয়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং যেখানে কোনো রড বা কোণ কোষ থাকে না বলে কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, তাকে অন্ধ বিন্দু (Blind spot) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব হরমোন একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে অন্য কোনো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং তার বৃদ্ধি ও হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরকে ট্রপিক হরমোন (Tropic hormone) বলে। উদাহরণস্বরূপ, পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো মানুষের অন্তঃকর্ণের মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থের ইউট্রিকুলাস (অর্ধবৃত্তাকার নালিসহ ভারসাম্য সংক্রান্ত অংশ)।

    এর গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রকোষ্ঠ: এটি একটি স্ফীত প্রকোষ্ঠ, যার অভ্যন্তরে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পূর্ণ থাকে। এর গায়ে সংবেদী লোমযুক্ত ম্যাকুলা নামক সংবেদী অঞ্চল থাকে।
    ২. অর্ধবৃত্তাকার নালি: ইউট্রিকুলাস থেকে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি উৎপন্ন হয়। এর দুটি উল্লম্ব এবং একটি অনুভূমিকভাবে পরস্পরের সাথে সমকোণে অবস্থান করে।
    ৩. অ্যাম্পুলা ও ক্রিস্টি: প্রতিটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা (Ampulla) গঠন করে। অ্যাম্পুলার অভ্যন্তরে সংবেদী কোষযুক্ত উঁচু রিজ থাকে, যাকে ক্রিস্টি (Crista ampullaris) বলে। এর ওপর জিলেটিনময় কাপুলা (Cupula) থাকে।
    ৪. সংবেদী লোম ও অটোলিথ: সংবেদী কোষগুলো অডিটরি স্নায়ুর ভেস্টিবুলার শাখার সাথে যুক্ত থাকে। এই অংশটি প্রধানত দেহের ভারসাম্য ও অবস্থানের পরিবর্তনের সংবেদন গ্রহণে ভূমিকা রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো ককলিয়া (Cochlea), যা মানবদেহের শ্রবণ প্রক্রিয়ায় প্রধান সহায়তা করে।

    শ্রবণ প্রক্রিয়ার কর্মকৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. শব্দতরঙ্গ গ্রহণ ও প্রেরণ: পিনা শব্দতরঙ্গ কেন্দ্রীভূত করে বহিঃকর্ণকুহর দিয়ে পাঠালে তা টিম্পেনিক পর্দায় আঘাত করে এবং পর্দা কেঁপে ওঠে।
    ২. মধ্যকর্ণের মাধ্যমে বিবর্ধন: মধ্যকর্ণের ক্ষুদ্রাস্থিগুলো (ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস) এই কম্পনকে প্রায় ২০ গুণ বিবর্ধিত করে এবং স্টেপিসের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের ওভাল উইন্ডো বা ফেনেস্ট্রা ওভালিসে পৌঁছায়।
    ৩. ককলিয়ার তরলে কম্পন: ফেনেস্ট্রা ওভালিসের কম্পন ককলিয়ার স্কালা ভেস্টিবুলির পেরিলিম্ফে এবং পরবর্তীতে স্কালা মিডিয়ার এন্ডোলিম্ফে তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
    ৪. সংবেদী অঙ্গের উদ্দীপনা: তরঙ্গের এই আন্দোলন বেসিলার ঝিল্লিকে কাঁপিয়ে দেয়। ফলে বেসিলার ঝিল্লির ওপর অবস্থিত 'অর্গান অব কর্টি'র (Organ of Corti) সংবেদী লোমকোষগুলো টেকটোরিয়াল পর্দার সংস্পর্শে বেঁকে যায় এবং উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
    ৫. স্নায়বিক অনুভূতি ও শব্দ উপলব্ধি: সংবেদী কোষের এই উদ্দীপনা স্নায়ু উদ্দীপনায় (Action potential) রূপান্তরিত হয় এবং অষ্টম করোটিক স্নায়ু অর্থাৎ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সেরিব্রামের শ্রবণ কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখানে শব্দ অনুভূত ও বিশ্লেষিত হয়। অতিরিক্ত শব্দতরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটুন্ডা দিয়ে অপসারিত হয়।

    এভাবেই 'B' চিহ্নিত ককলিয়া মানবদেহে শ্রবণে মূল ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন