বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এইখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে, বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে, এত আদরের বুজিরে তাহার ভালোবাসিত না মোটে, হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।

  1. ক)

    'খবরটা কী তাও কন'- কার উক্তি?

    (1)
  2. খ)

    'আতঙ্কে পাঁশুটে মেরে যায়?' কেন- উক্তিটির ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বুজির সাথে মাসি-পিসি গল্পের আহ্লাদির অবস্থার তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মাসি-পিসি গল্পের মূলভাব কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? উপযুক্ত যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'খবরটা কী তাও কন'- উক্তিটি কৈলেশের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অভাব ও দারিদ্র্যের চরম রূপের মুখে পড়ার ভয় এবং সেই সাথে বিপদের শঙ্কা থেকে আহ্লাদির মুখ ভয়ে বিবর্ণ হয়ে ওঠায় বলা হয়েছে 'আতঙ্কে পাঁশুটে মেরে যায়'।

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পে স্বামী জগু এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতন সহ্য করার পর পিত্রালয়েও আহ্লাদি নিশ্চিন্ত হতে পারেনি। দুর্ভিক্ষের কারণে পরিবারের সবাই মারা যায়। এরপর অসৎ স্বামী ও সমাজের লম্পটদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে যে চরম অনিরাপত্তাবোধ ও ভয় তাকে সর্বক্ষণ তাড়া করে ফেরে, সেই তীব্র মানসিক ভীতিতেই তার মুখ আতঙ্কে পাঁশুটে হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বুজির অবস্থার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বুজিকে অনেক আদরে বড় করে বনেদি পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে তাকে কেউ ভালোবাসেনি। তাকে শারীরিক আঘাত না করা হলেও কথার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতন ('শত যে মারিত ঠোঁটে') করা হতো।

    'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির জীবনেও একই নির্মম সত্য প্রতিফলিত। আহ্লাদিকেও শ্বশুরবাড়িতে অকথ্য লাঞ্ছনা ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। তার স্বামী জগু তাকে মারধর ও অত্যাচার করত। উভয়েই তাদের শ্বশুরবাড়িতে ভালোবাসা ও স্নেহের বদলে কেবল অবহেলা, নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে—এই দিক থেকে উদ্দীপকের বুজির সাথে আহ্লাদির অবস্থা সমান্তরাল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের মূলভাবের কেবল একটি আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে, সামগ্রিক মূলভাব প্রতিফলিত হয়নি।

    'মাসি-পিসি' গল্পের মূলভাব শুধু নারীর ওপর হওয়া শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন ও অসহায়ত্ব নয়; বরং প্রতিকূল পরিবেশে দুই নিঃস্ব ও বিধবা নারীর (মাসি ও পিসি) অদম্য সংগ্রাম, আহ্লাদির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, জীবিকা নির্বাহের আত্মপ্রত্যয় এবং সমাজের লোলুপ পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নারীশক্তির জাগরণই গল্পের প্রধান সুর। তারা শুধু আহ্লাদিকে আশ্রয়ই দেয়নি, জগুর মতো অত্যাচারী স্বামী ও গোকুলের মতো লম্পটদের হাত থেকে আহ্লাদিকে বঁটি-রামদা হাতে রক্ষা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি।

    পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের চরণে কেবল বুজি নামক একটি মেয়ের বনেদি ঘরে বিয়ে হওয়ার পর তার প্রতি মানসিক নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে কবরে যাওয়ার (মৃত্যুর) ট্র্যাজেডি ফুটে উঠেছে। এখানে নারী নির্যাতন ও অবহেলার দিকটি থাকলেও মাসি-পিসির মতো আত্মরক্ষা, জীবিকার সংগ্রাম কিংবা প্রতিরোধমূলক কোনো মানসিকতার প্রকাশ নেই।

    অতএব, উদ্দীপকটি নির্যাতিতা নারীর অসহায়ত্বের প্রাথমিক প্রেক্ষাপটটি ধারণ করলেও 'মাসি-পিসি' গল্পের মূল উপজীব্য—নারী চরিত্রের অপরাজেয় প্রতিরোধ ও লড়াইয়ের সার্বিক চেতনা—উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গল্পের মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন