‍ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

‘ক' রাষ্ট্রে বহুদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে বসবাস করে আসছে। এক সময় ঐ অঞ্চলে একটি বড় বিদ্রোহ সংঘটিত হলে শাসকবর্গ পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়কে দায়ী করে। ঐ সময়ে সেখানে দোষী সম্প্রদায়ের ত্রাণকর্তা হিসেবে একজন মনীষীর আবির্ভাব ঘটে। তিনি তার সম্প্রদায়কে সকল গোঁড়ামি ত্যাগ করে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শাসকের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন সভা, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা গড়ে ওঠে।

  1. ক)

    কত সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়?

    (1)
  2. খ)

    ইলবার্ট বিল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মনীষীর সাথে তোমার পঠিত কোন মনীষীর কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারতীয় মুসলমানদের চেতনা বিকাশে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ ও আন্দোলনের অবদান সর্বাধিক- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইলবার্ট বিল হলো ১৮৮৩ সালে বড়লাট লর্ড রিপনের আইন পরিষদের সদস্য সি. পি. ইলবার্ট কর্তৃক উত্থাপিত একটি ঐতিহাসিক খসড়া আইন। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের বিচার ব্যবস্থায় জাতিগত বৈষম্য দূর করা। এর মাধ্যমে যোগ্য ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের ইউরোপীয় বা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। তবে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরবর্তীতে বিলটিতে কিছু সংশোধন আনা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মনীষীর সাথে আমার পঠিত ইতিহাসের মহান সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কাজের গভীর মিল রয়েছে।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ভারতীয় মুসলমানদের এই বিদ্রোহের জন্য প্রধানত দায়ী মনে করে তাদের প্রতি দমন-পীড়ন নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে চরমভাবে পিছিয়ে পড়ে এবং ব্রিটিশদের সাথে তাদের দূরত্বের সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি বড় বিদ্রোহের পর শাসকবর্গ পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়কে দায়ী করলে তাদের মধ্য থেকে একজন ত্রাণকর্তার আবির্ভাব ঘটে যিনি ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিকতার মাধ্যমে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেন। এই চিত্রটি স্যার সৈয়দ আহমদ খানের পদক্ষেপের প্রতিচ্ছবি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে আধুনিক পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া মুসলিম সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই তিনি কুসংস্কার ও গোঁড়ামি পরিহার করে ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি, সাইন্টিফিক সোসাইটি এবং আলীগড় আন্দোলন পরিচালনা করেন। সুতরাং, উদ্দীপকের মনীষীর সাথে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা বিকাশে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ ও আলীগড় আন্দোলনের অবদান সর্বাধিক— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৮৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে চরম হতাশাগ্রস্ত মুসলিম জাতিকে আলোর পথ দেখান স্যার সৈয়দ আহমদ খান। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধুনিক শিক্ষায় অনগ্রসরতার কারণেই মুসলমানরা সামগ্রিক জীবনে পিছিয়ে পড়ছে। তাই তিনি ১৮৬৪ সালে 'সাইন্টিফিক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করে বিজ্ঞান ও ইতিহাসের বিভিন্ন ইংরেজি গ্রন্থের উর্দু অনুবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন, যা মুসলমানদের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তা জাগ্রত করে।

    পরবর্তীতে ১৮৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ' (যা পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়)। এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল শিক্ষাদানের কেন্দ্র ছিল না, বরং আধুনিক ভারতের মুসলমানদের পুনর্জাগরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু বা আলীগড় আন্দোলনে পরিণত হয়। এছাড়া ১৮৮৬ সালে তিনি 'সর্বভারতীয় মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স' গঠন করেন, যা মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত হতে এবং জাতীয় বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই পরবর্তীকালে ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছিল।

    তাঁর এই উদ্যোগসমূহের ফলে মুসলিম সমাজের মধ্য থেকে ইংরেজদের প্রতি বৈরিতা দূর হয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং একটি সচেতন ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটে। এই নেতৃত্বই পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের মুসলিম রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। অতএব, ভারতীয় মুসলমানদের চেতনা বিকাশে তাঁর প্রতিষ্ঠানসমূহ ও আন্দোলনের অবদান ছিল অনস্বীকার্য ও সর্বাধিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন