পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
- খ)(2)
অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উত্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসহযোগ আন্দোলন বলতে অন্যায্য ও স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর সাথে সকল প্রকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক সহযোগিতা বর্জন করে দাবি আদায়ের অহিংস ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিরোধকে বোঝায়।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের সকল আদেশ-নির্দেশ অমান্য করে এবং কর-খাজনা দেওয়া বন্ধ রেখে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা কার্যত জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায় ছাত্র-জনতার একটি উত্তাল মিছিল, যেখানে প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিল ও বিক্ষোভের আবহকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে কেবল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু করে। এর প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল বের করে এবং তৎকালীন পাকিস্তানি পুলিশ সেই মিছিলে গুলি বর্ষণ করে। ফলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। উদ্দীপকের চিত্রে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহনকারী মিছিলটি ১৯৫২ সালের রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। বস্তুত ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সার্থক ভিত্তি রচিত হয়েছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা বুঝতে বাঙালির বেশি সময় লাগেনি। বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল যে শুধু ধর্মের মিল তাদের প্রকৃত অধিকার ও স্বকীয়তা রক্ষা করতে পারবে না। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এদেশের মানুষ তাদের ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও আত্মমর্যাদার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। ভাষার দাবিতে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি প্রথম উপলব্ধি করে যে তাদের স্বতন্ত্র জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।
এই আন্দোলনের ফলেই ধর্মের বিভেদ ভুলে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
অতএব, বলা যায় ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রধান উৎস, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও