ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. ফয়সাল শেয়ার হস্তান্তর অযোগ্য একটি কোম্পানির পরিচালক। তিনি ব্যবসায়ের সুফল জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু স্বাস্থ্য সেবামূলক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অপরদিকে, মি. ফারুক অন্য একটি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য।
- ক)(1)
শেয়ার কী?
- খ)(2)
'কৃত্রিম সত্তা' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মি. ফয়সালের কোম্পানির ধরনটি ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
মি. ফারুকের কোম্পানি দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখছে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথ মূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্রতম একক বা সমান অংশকে শেয়ার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম সত্তা বলতে ব্যক্তি না হয়েও আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তির ন্যায় আইনগত মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্ব লাভ করাকে বোঝায়।
যৌথ মূলধনী কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত হওয়ার ফলে ব্যক্তির মতো নিজস্ব নামে চুক্তি সম্পাদন, সম্পদ অর্জন, মামলা দায়ের এবং অন্যদের দ্বারা মামলা মোকদ্দমার সম্মুখীন হতে পারে। কোম্পানির এই আইনগত সত্ত্বাকেই কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. ফয়সালের কোম্পানিটি হলো একটি ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ (Private Limited Company)।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার বা ঋণপত্র জনসাধারণের নিকট বিক্রি করা যায় না ও অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, মি. ফয়সাল যে কোম্পানির পরিচালক সেটির শেয়ার হস্তান্তর অযোগ্য। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হলো এর শেয়ার অবাধে হস্তান্তর করা যায় না। সুতরাং, মি. ফয়সালের কোম্পানিটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. ফারুকের কোম্পানিটি একটি ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’, যা দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী অবদান রাখছে।
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য ও জনগণের নিকট বিক্রয়যোগ্য, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। উদ্দীপকে মি. ফারুকের কোম্পানির শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
দেশের অর্থনীতিতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির অবদান নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মূলধন গঠন: জনগণের অলস ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে একত্রিত করে এ জাতীয় কোম্পানি দেশে বৃহৎ মূলধন সৃষ্টি করে।
২. শিল্পায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি: বৃহৎ মূলধনের সাহায্যে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়, যা দেশের জিডিপি ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়ায়।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বিশাল আকারের ব্যবসায় কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় এবং বেকারত্ব দূর হয়।
৪. রাজস্ব বৃদ্ধি: কোম্পানিটি ব্যবসা থেকে সরকারকে বিপুল পরিমাণ কর, ভ্যাট এবং শুল্ক প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করে।
৫. শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়ার ফলে মূলধন বাজার শক্তিশালী হয় এবং পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে।অতএব, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে, মি. ফারুকের কোম্পানিটি বৃহৎ আকারে মূলধন সংগ্রহ, কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও