পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
লেনিন ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি অতি সহজেই তার প্রজ্ঞার মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারতেন। বিশেষ করে তার বক্তব্য এবং ব্যক্তিত্ব জনগণকে ভীষণভাবে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করত। তার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হয়।
- ক)(1)
উপদল কী?
- খ)(2)
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে লেনিনের নেতৃত্বের ধরন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে লেনিনের গুণাবলি ছাড়াও একজন নেতার আর কী কী গুণাবলি থাকতে পারে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপদল (Faction) হলো কোনো বৃহৎ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের অভ্যন্তরে অভিন্ন স্বার্থ বা আদর্শকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি ক্ষুদ্রতর স্বার্থান্বেষী বা উপ-গোষ্ঠী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Group) বলতে এমন একটি সংগঠিত জনসমষ্টিকে বোঝায়, যা প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা না করে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এরা নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী দেয় না, বরং লবিং, প্রচারণা, ধর্মঘট বা স্মারকলিপি প্রদানের মতো নানাবিধ উপায়ে আইন প্রণেতা ও প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজস্ব গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল করে। উদাহরণস্বরূপ—বণিক সমিতি, শিক্ষক সমিতি বা শ্রমিক ইউনিয়ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে লেনিনের মধ্যে 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' (Charismatic Leadership) প্রতিফলিত হয়েছে।
যে নেতৃত্বের ভিত্তি হলো নেতার অসাধারণ ব্যক্তিগত আকর্ষণ, অনন্য ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা এবং গভীর দূরদর্শিতা, যার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জনগণ অন্ধের মতো বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, লেনিন তার অগাধ প্রজ্ঞা, চমৎকার বাচনভঙ্গি এবং অনন্য ব্যক্তিত্বের দ্বারা অতি সহজেই জনগণকে আকৃষ্ট, উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করতে পারতেন। তার এই ব্যক্তিগত আকর্ষণী ক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেই জনগণ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সুস্পষ্টভাবেই সম্মোহনী নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে লেনিনের ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা ও প্রজ্ঞার মতো গুণাবলির উল্লেখ রয়েছে। তবে একজন সফল ও আদর্শ নেতার কেবল সম্মোহনী গুণাবলি ছাড়াও আরও বহুবিধ রাজনৈতিক, মানসিক ও নৈতিক গুণাবলি থাকা আবশ্যক।
একজন সফল নেতার মধ্যে নিম্নোক্ত গুণাবলি থাকা প্রয়োজন:
১. সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা: নেতার চরিত্র হতে হবে নিষ্কলঙ্ক। সততা ও নীতিপরায়ণতা জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
২. দূরদর্শিতা: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উপলব্ধি করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নেতার থাকা জরুরি।
৩. আত্মবিশ্বাস ও সাহসিকতা: যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে ভীতিহীন থেকে দৃঢ় চিত্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মীদের আশ্বস্ত করার ক্ষমতা থাকতে হয়।
৪. পরমতসহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব: অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভিন্নমতকে মূল্যায়ন করা নেতৃত্বের অন্যতম সেরা গুণ।
৫. নিঃস্বার্থপরতা ও দেশপ্রেম: ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক।
৬. সাংগঠনিক দক্ষতা: লক্ষ্য অর্জনে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখা এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে বণ্টন করার সামর্থ্য থাকতে হয়।সুতরাং, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সততা, দূরদর্শিতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলিই একজন নেতাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও