উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
কামাল একটি পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানার মেশিন অপারেটর। তিনি গড়ে প্রতিদিন ওভারটাইমসহ ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। অন্যদিকে, কারখানার ম্যানেজার তার অধস্তনদের আদেশ-নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়ে এসি রুমে বসে সময় অতিবাহিত করেন। তিনি মাসে ১ লক্ষ টাকা বেতন পান। ম্যানেজারের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেশির ব্যাপারটা কামালকে খুব ভাবায়।
- ক)(1)
ব্যবসায় জোট কী?
- খ)(2)
"মূলধন উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কামালের কাজটি কোন ধরনের শ্রমের সাথে জড়িত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ম্যানেজারের সাথে কামালের শ্রমের তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরে বেতন বৈষম্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একক উদ্দেশ্য অর্জন বা বাজারে প্রতিযোগিতা হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চুক্তির মাধ্যমে একত্রিত হওয়াকে ব্যবসায় জোট (Business Combination) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় মূলধন হলো মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত সেই অংশ, যা সরাসরি ভোগ না করে পুনরায় অধিকতর সম্পদ বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রকৃতির কোনো উপাদান সরাসরি মূলধন নয়। মানুষ যখন শ্রম ও প্রযুক্তির সাহায্যে কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে যন্ত্রপাতি, কলকারখানা বা অন্য কোনো উৎপাদন সহায়ক সামগ্রী তৈরি করে এবং তা ভবিষ্যতের উৎপাদনে নিয়োজিত করে, তখনই তা মূলধন রূপ লাভ করে। এই কারণে মূলধনকে 'উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কামালের কাজটি কায়িক বা শারীরিক শ্রমের সাথে জড়িত।
মানুষ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত যে শারীরিক পরিশ্রম বা বলপ্রয়োগ করে, তাকে কায়িক শ্রম বলে। কায়িক শ্রমে শারীরিক সক্ষমতা, পরিশ্রম ও সময়কে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে কামাল একটি পোশাক কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কর্মরত। তিনি প্রতিদিন ১২-১৩ ঘণ্টা দীর্ঘ সময় ধরে মেশিন চালনা ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করেন। তার এ কাজের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তের চেয়ে শারীরিক শ্রম ও উপস্থিতির প্রাধান্য বেশি থাকে। অতএব, কামালের কাজটি সুস্পষ্টভাবে কায়িক বা শারীরিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ম্যানেজার ও কামালের শ্রমের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা তাদের বেতন কাঠামোর পার্থক্যের মূল কারণ।
কামাল কারখানায় কায়িক শ্রম প্রদান করেন, যেখানে সরাসরি শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়। অপরদিকে, কারখানার ম্যানেজার মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম প্রদান করেন। তিনি পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মীদের দিকনির্দেশনা প্রদান, তত্ত্বাবধান, জটিল সমস্যা সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ম্যানেজারের এই কাজের জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষায়িত কারিগরি জ্ঞান, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরল দক্ষতা। কারখানার উৎপাদন, সামগ্রিক সাফল্য ও লাভ-ক্ষতি বহুলাংশে ম্যানেজারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, কামালের মতো কায়িক শ্রম প্রদানকারী কর্মীর সরবরাহ শ্রমবাজারে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য এবং তাদের কাজের পরিধি একটি নির্দিষ্ট পুনরাবৃত্তিমূলক সীমার মধ্যে আবদ্ধ।
অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী, যে শ্রমের দায়িত্ব, জটিলতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ঝুঁকি বেশি, তার পারিশ্রমিক বা প্রান্তিক উৎপাদনশীলতার মূল্যও বেশি হয়। সুতরাং, ম্যানেজারের মানসিক শ্রম ও বৃহৎ দায়িত্বের তুলনায় কামালের কায়িক শ্রমের ভিত্তিতে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান বেতন বৈষম্য সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও