ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
হোয়াংহো নদীর তীরে চীন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়। হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হলেও এ নদী অধিবাসীদের জীবনে। বিশাল ভূমিকা রাখে। নদীর উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণ করায় গ্রামগুলো বন্যামুক্ত হয় এবং পরিকল্পিত সেচ প্রকল্প চালু করায় কৃষি উৎপাদন, বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। চীনারা তাদের রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখার জন্য ত্রিকোণাকার ঘর নির্মাণ করে সেখানে সংরক্ষণ করে। বর্তমানে যা কঠোর নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষিত আছে।
- ক)(1)
প্যাপিরাস কী?
- খ)(2)
মিসরীয় লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর সাথে মিসরের নীলনদের কী মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মিসরের ফারাও রাজাদের সমাধি। সংরক্ষণের বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্যাপিরাস হলো প্রাচীন মিসরে নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া এক ধরণের নলখাগড়া জাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যা থেকে কাগজ তৈরি করা হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাচীন মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতিকে 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) বা পবিত্র লিপি বলা হয়।
মিসরীয়রা চিত্রলিপির মাধ্যমে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত। কাঠ, পাথর বা প্যাপিরাসের ওপর প্রতীক ও ছবির মাধ্যমে এই লিপি উৎকীর্ণ করা হতো। প্রাচীনকালে এ লিপিতে প্রায় ৭৫০টি চিত্রচিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে এই কঠিন হায়ারোগ্লিফিক লিপি থেকে হায়ারোটিক ও ডেমোটিক নামের আরও দুটি সহজ পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর সাথে প্রাচীন মিসরের নীল নদের ভৌগোলিক অবদান ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গভীর মিল রয়েছে।
হোয়াংহো নদী যেমন পলিমাটি জমিয়ে চীনের বিস্তৃত সমভূমি উর্বর করেছে এবং অধিবাসীদের কৃষি ও জীবিকায় বিশাল অবদান রেখেছে, তেমনি নীল নদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা। এজন্য ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিসরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন। নীল নদে প্রতি বছর নিয়মিত বন্যা হতো এবং বন্যার পানি নেমে গেলে দুকূলে উর্বর পলি পড়ত, যা কৃষির উৎপাদন বাড়িয়ে সভ্যতাকে টিকিয়ে রেখেছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত হোয়াংহো নদীর মতো নীল নদও প্রাচীন মানুষের জীবনে সেচ সুবিধা, নদীশাসন ও কৃষিজ উৎপাদনের মূল ভিত্তি ছিল। উভয় নদীই সভ্যতার জনপদের অস্তিত্ব ও অগ্রগতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ত্রিকোণাকার ঘরের যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা প্রাচীন মিসরের ফারাও রাজাদের সমাধি অর্থাৎ 'পিরামিড'-কে নির্দেশ করে।
প্রাচীন মিসরীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, মৃত্যুর পর আত্মা বা 'কা' ও 'বা' পুনরায় শরীরে ফিরে আসে এবং পরকালে অনন্ত জীবন শুরু হয়। তাই তারা মৃতদেহকে অবিকৃত রাখার জন্য বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য মাখিয়ে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে 'মমি' বানিয়ে রাখত। ফারাও রাজারা নিজেদের অমরত্ব নিশ্চিত করতে এবং মমি সুরক্ষিত রাখতে মরুভূমির বুকে বিশালাকার ত্রিকোণাকৃতির পাথুরে স্মৃতিসৌধ বা পিরামিড নির্মাণ করতেন।
পিরামিডের ভেতরে জটিল সুরঙ্গ, বিভিন্ন কক্ষ ও গুপ্তকক্ষ থাকত। প্রধান কক্ষে সুসজ্জিত কফিনে ফারাওয়ের মমি রাখা হতো। সেই সাথে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী পরকালের আরাম-আয়েশের জন্য ফারাওদের ব্যবহৃত সোনা-দানা, মণি-মুক্তা, খাবার-দাবার, পোশাক ও প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সমাধিতে দিয়ে দেওয়া হতো। মিসরের গিজার পিরামিড ফারাওদের এ জাতীয় সমাধি সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যা হাজার হাজার বছর ধরে স্থাপত্যবিদ্যার এক অনন্য বিস্ময় হিসেবে টিকে রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও