বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

“বাজারে মিলিটারি ঢোকার পর থেকেই কলিমদ্দি দফাদারের ওপর বোর্ড অফিস খোলার ভার পড়েছে। অপেক্ষাকৃত কমবয়স্ক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মিলিটারির ভয়ে পারতপক্ষে এদিকে আসেন না। মেম্বারগণও আত্মগোপন করেছেন। কিন্তু বোর্ড অফিস নিয়মিত খোলা রাখার হুকুম জারি আছে। কলিমদ্দি এ কাজ করার জন্য বাজারে আসে। খান সেনারা ওকেই ওদের অভিযানে সঙ্গী করে নেয়। সে সরকারি লোক, নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং যা হুকুম তা পালন করে। সুতরাং সন্দেহের কারণ নেই।” তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাক-ক্যাম্পের খবর মুক্তি বাহিনীর নিকট সরবরাহ করাসহ পাক হানাদারদের বিপথে চালিত করতে পারে কলিমদ্দি।

  1. ক)

    ‘রেইনকোর্ট’ গল্পে আসমা কে?

    (1)
  2. খ)

    ‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।'—কেন?

    (2)
  3. গ)

    ‘রেইনকোর্ট' গল্পে বর্ণিত কলেজের পরিস্থিতির সাথে উদ্দীপকের বোর্ড অফিসের পরিস্থিতির তুলনা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের কলিমদ্দি ও ‘রেইনকোর্ট' গল্পের নূরুল হুদার মতো সাধারণ ব্যক্তিরাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা”।—মন্তব্যটি যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘রেইনকোর্ট’ গল্পে আসমা হলো গল্পের প্রধান চরিত্র নূরুল হুদার স্ত্রী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কলেজের জিওগ্রাফির প্রফেসর আবদুস সাত্তার মৃধা মিলিটারির ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শূন্য ঘরে কেউ সহজে ঘেঁষে না।

    পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন দেশে তাণ্ডব শুরু করে, তখন সাত্তার মৃধা মিলিটারির ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর শূন্য ফ্ল্যাটটি খালি পড়ে থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের সন্দেহ ও তল্লাশির আতঙ্ক এতটাই তীব্র ছিল যে, কোনো বিপদের আশঙ্কায় অন্য কেউ সেই ফ্ল্যাটের কাছে ঘেঁষতে বা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে সাহস করত না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘রেইনকোর্ট’ গল্পে বর্ণিত কলেজের পরিস্থিতির সাথে উদ্দীপকের বোর্ড অফিসের পরিস্থিতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভয় ও তাদের চাপের মুখে পরিচালিত হওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘রেইনকোর্ট’ গল্পে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে কলেজের প্রিন্সিপালসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ভান করতেন। মিলিটারির হুকুমে শিক্ষকদের হাজিরা খাতা স্বাক্ষর করতে হতো এবং কলেজের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে—এমনটি প্রচারের বাধ্যবাধকতা ছিল।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাজারে মিলিটারিদের আগমনের পর বোর্ড অফিসের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা প্রাণভয়ে আত্মগোপন করেন। কিন্তু হানাদার বাহিনীর হুকুম জারির কারণে নিরুপায় হয়ে অফিসটি খোলা রাখতে হয় এবং সেই দায়িত্ব চাপে বয়োবৃদ্ধ কলিমদ্দি দফাদারের ওপর। উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তচক্ষু ও ভয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনোভাবে চালু রাখার অসহায় বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের কলিমদ্দি ও ‘রেইনকোর্ট’ গল্পের নূরুল হুদার মতো সাধারণ ব্যক্তিরাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কেবল সশস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা নন, বরং এদেশের সাধারণ মানুষও নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানাভাবে অবদান রেখেছেন। অনেকেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শত্রুর খবর মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করেছেন, আবার অনেকেই পাকিস্তানি বাহিনীর চরম নির্যাতনের মুখেও দেশপ্রেম ও নৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

    উদ্দীপকের কলিমদ্দি আপাতদৃষ্টিতে পাকিস্তানি সেনাদের বাধ্যগত ও নিরীহ লোক হিসেবে পরিচিত হলেও গোপনে সে পাকসেনাদের তথ্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সরবরাহ করত এবং তাদের ভুল পথে চালিত করত। অন্যদিকে ‘রেইনকোর্ট’ গল্পের নূরুল হুদা ছিলেন একজন অত্যন্ত ভীতু স্বভাবের কলেজ শিক্ষক। কিন্তু শ্যালক মিন্টুর রেইনকোর্টটি গায়ে জড়ানোর পর তাঁর মধ্যে এক অদ্ভুত সাহস ও দেশপ্রেমের সঞ্চার হয়। পাকিস্তানি মিলিটারিদের নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য ফাঁস করেননি, বরং মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য এক ধরনের গর্ব ও সংহতি অনুভব করেছেন।

    সুতরাং দেখা যায়, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা পদবি ছাড়াই কলিমদ্দি ও নূরুল হুদার মতো আপাতসাধারণ মানুষরাই জাতির চরম সংকটে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। তাই বলা যায়, সাধারণ মানুষের এই আত্মত্যাগ ও সাহসই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন