ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জসীম সাহেব ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিসহ ৩৫ লক্ষ টাকায় একটি প্রাইভেট কার কিনে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সাথে বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে গাড়িটি ছিনতাই হলে তিনি মামলা দায়ের করেন এবং বিমা কোম্পানির কাছে বিমার অর্থ দাবি করেন। মামলাটি নিষ্পত্তি হলে বিমা কোম্পানি তাকে ১৮,৫০,০০০ টাকা প্রদান করে।
- ক)(1)
স্বাস্থ্য বিমা কী?
- খ)(2)
জীবন বিমা কী ক্ষতিপূরণের চুক্তি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে বিমাপত্রটি জসীম সাহেব গ্রহণ করেছিলেন তা কোন ধরনের? বিস্তারিত লেখো।
- ঘ)(4)
বিমা দাবি বাবদ জসীম সাহেব যে পরিমাণ টাকা পেলেন তা কী যথার্থ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাগ্রহীতার অসুস্থতা, দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক অক্ষমতা বা চিকিৎসার ব্যয় বহনের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য যে বিমা করা হয়, তাকে স্বাস্থ্য বিমা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবন বিমা কোনো ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়, বরং এটি একটি নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতির চুক্তি।
ক্ষতিপূরণের চুক্তিতে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ টাকার অঙ্কে সঠিকভাবে পরিমাপ করে কেবল সেই পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষের জীবনের আর্থিক মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই কোনো মানুষের মৃত্যু হলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। এ কারণে জীবন বিমায় নির্দিষ্ট মেয়াদের পর বা মৃত্যুতে পূর্বনির্ধারিত সম্পূর্ণ বিমাঙ্ক পরিশোধ করা হয়, ফলে এটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জসীম সাহেব যে বিমাপত্রটি গ্রহণ করেছিলেন তা হলো সাধারণ বিমার আওতাভুক্ত 'মোটরগাড়ি বিমাপত্র' (Motor Insurance Policy)।
মোটরযান ব্যবহারের ক্ষেত্রে যানবাহনটির ক্ষয়ক্ষতি, চুরি, ছিনতাই কিংবা তৃতীয় পক্ষের প্রতি সৃষ্ট দায় বা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য যে সাধারণ বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়, তাকে মোটরগাড়ি বিমাপত্র বলা হয়। এটি সাধারণত দুই প্রকারের হতে পারে—শুধু তৃতীয় পক্ষের দায় বিমা অথবা সর্বাত্মক/ব্যাপক বিমা (Comprehensive Policy)।
উদ্দীপকে জসীম সাহেব ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫ লক্ষ টাকায় কেনা একটি প্রাইভেট কারের সুরক্ষার জন্য রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সাথে চুক্তি করেন। গাড়িটি ছিনতাই হওয়ার পর তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ব্যক্তিগত মোটরগাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মোটরগাড়ি বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা দাবি বাবদ জসীম সাহেব যে পরিমাণ অর্থ (১৮,৫০,০০০ টাকা) পেয়েছেন, তা বিমা আইনের দৃষ্টিতে যথার্থ বলে বিবেচিত হতে পারে।
মোটরগাড়ি বিমা হলো একটি সম্পত্তি বিমা এবং এটি ক্ষতিপূরণের নীতি (Principle of Indemnity) দ্বারা পরিচালিত হয়। এই নীতি অনুযায়ী, ক্ষতির সময় সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য বা অবচয়-পরবর্তী মূল্য (Depreciated value) বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, বিমাকৃত বা ক্রয়মূল্য নয়। বিমার উদ্দেশ্য বিমাগ্রহীতাকে লাভবান করা নয়, বরং ক্ষতির পূর্ববর্তী আর্থিক অবস্থায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।
উদ্দীপকে জসীম সাহেব কিস্তিসহ ৩৫ লক্ষ টাকায় গাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু গাড়ির ক্রয়মূল্যে সুদের পরিমাণ বা কিস্তির অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এবং ব্যবহারের ফলে গাড়িটির অবচয়ও (Depreciation) সংঘটিত হয়। তাছাড়া বিমা চুক্তির শর্তাবলীতে 'বিমাকৃত ঘোষিত মূল্য' (Insured Declared Value - IDV) নির্ধারিত থাকে। গাড়িটি ছিনতাই হওয়ার পর বিমা কোম্পানি গাড়ির অবচয়, বর্তমান বাজারমূল্য ও চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনা করেই ১৮,৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। অতএব, ক্ষতিপূরণের সার্বিক নীতি ও অবচয় বিবেচনায় জসীম সাহেবের প্রাপ্ত অর্থ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও