অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে GDP তে প্রাণিসম্পদ উপখাতের অবদান এবং এর প্রবৃদ্ধির হার নিচে দেওয়া হলো:
| ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১৩-১৪ | ২০২০-২১ | ২০২১-২২
GDP-তে অবদান (কোটি টাকায়) | ১২,২২১ | ১২,৫৪৯ | ১৩,২৫৮ | ৫৩,৯৮৯ | ৫৫.৬৬১
GDP-তে প্রবৃদ্ধির হার | ২.৫৯ | ২.৬৮ | ২.৮৩ | ১.৯৮ | ১.৯০
- ক)(1)
কৃষিপণ্যের বিপণন কী?
- খ)(2)
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির জন্য ক্ষতিকর- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে বাংলাদেশের GDP তে প্রাণিসম্পদের প্রবৃদ্ধির হারকে স্তম্ভচিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন করো
- ঘ)(4)
'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে'- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদক বা কৃষকের কাছ থেকে কৃষিপণ্য চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর সাথে জড়িত যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলির (যেমন: সংগ্রহ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, মান নির্ধারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রয়) সমষ্টিকে কৃষিপণ্যের বিপণন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষির উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে অসময়ে বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফসলি জমি বিনষ্ট হয়, ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। ফলস্বরূপ কৃষির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে GDP-তে প্রাণিসম্পদের প্রবৃদ্ধির হার স্তম্ভচিত্রের (Bar Diagram) মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
অক্ষ নির্ধারণ:
- ভূমি অক্ষ বা X-অক্ষে অর্থবছর (২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১৩-১৪, ২০২০-২১, ২০২১-২২) বিবেচনা করা হলো।
- লম্ব অক্ষ বা Y-অক্ষে প্রাণিসম্পদ উপখাতের GDP প্রবৃদ্ধির হার (%) বিবেচনা করা হলো (স্কেল: ০.৫, ১.০, ১.৫, ২.০, ২.৫, ৩.০)।
স্তম্ভের বিবরণ:
১. ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ২.৫৯% উচ্চতার একটি স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
২. ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ২.৬৮% উচ্চতার স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
৩. ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ২.৮৩% উচ্চতার স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
৪. ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ১.৯৮% উচ্চতার স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
৫. ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ১.৯০% উচ্চতার স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।[পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীদের একটি চিত্র এঁকে উল্লিখিত বছরগুলোর জন্য নির্দেশিত উচ্চতায় সমান প্রস্থবিশিষ্ট পাঁচটি স্তম্ভ প্রদর্শন করতে হবে। চিত্রে স্পষ্ট দেখা যায় যে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১.৯৮% ও ১.৯০% হয়েছে।] এভাবে উল্লিখিত প্রবৃদ্ধির হার স্তম্ভচিত্রের মাধ্যমে সহজেই দৃশ্যমান করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) প্রাণিসম্পদ উপখাতের অবদান টাকার অঙ্কে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে প্রাণিসম্পদের অবদান ছিল ১২,২২১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫,৬৬১ কোটি টাকায়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা শ্লথ (১.৯০% - ১.৯৮%), সামগ্রিক অবদানের আর্থিক মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পুষ্টির চাহিদা পূরণ: প্রাণিসম্পদ দেশের মানুষের প্রোটিন বা আমিষের চাহিদা (দুধ, ডিম ও মাংস) মেটাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। মানুষের আয় বাড়ার সাথে সাথে এসব পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: গ্রাম ও মফস্বলে ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি খামার এবং ছাগল-ভেড়া পালন যুবসমাজ ও গ্রামীণ নারীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক।
৩. শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: প্রাণিসম্পদ থেকে প্রাপ্ত চামড়া, হাড় ও পশম দেশের চামড়াশিল্প এবং সার ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: প্রক্রিয়াজাত মাংস, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।অতএব, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের পশুপালন, সুলভ ঋণ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তাই উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও