সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
নূহা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ একটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর' ডিগ্রি লাভ করে; যার সম্মান ও মাস্টার্স উভয় শ্রেণিতে ৬০ কর্মদিবসের মাঠকর্ম রয়েছে। বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
'Introduction to Social Welfare' গ্রন্থটি কার লেখা?
- খ)(2)
সমাজকর্ম একটি পদ্ধতিনির্ভর সমাধান প্রক্রিয়া- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নূহা যে বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি পাঠের আবশ্যকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Introduction to Social Welfare' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মের তাত্ত্বিক ডব্লিউ. এ. ফ্রিডল্যান্ডার (Walter A. Friedlander)-এর লেখা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর পেশা, যা সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে কাজ করে। সমাজকর্ম সমস্যার সমাধানের জন্য সনাতন বা গতানুগতিক উপায়ের পরিবর্তে ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সংগঠন বা উন্নয়নের মতো মৌলিক পদ্ধতি এবং সমাজকর্ম গবেষণা, সমাজকল্যাণ প্রশাসন ও সামাজিক কার্যক্রমের মতো সহায়ক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এসব পদ্ধতির ধারাবাহিক প্রয়োগের মাধ্যমেই সমস্যাগ্রস্ত মানুষের বহুমুখী সমস্যার স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান সম্ভব হয়। এজন্য সমাজকর্মকে একটি পদ্ধতিনির্ভর সমাধান প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নূহা যে বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে তা হলো 'সমাজকর্ম' (Social Work)। সমাজকর্ম বিষয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. সক্ষমকারী ও সাহায্যকারী পেশা: সমাজকর্ম মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে সে নিজের সমস্যা সমাধানে নিজেই সক্ষম হয়ে ওঠে ('Helping people to help themselves')।
২. সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: এটি ব্যক্তির সমস্যাকে কেবল এককভাবে দেখে না, বরং তার জৈবিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে।
৩. ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক শিক্ষার সমন্বয়: সমাজকর্মে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য বাধ্যতামূলক মাঠকর্ম (Fieldwork) অনুশীলন রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
৪. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভরতা: এটি সমস্যা সমাধানের জন্য মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির বিজ্ঞানসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করে।
৫. পেশাগত মূল্যবোধ ও আচরণবিধি: সমাজকর্ম নিজস্ব সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ, দর্শন ও পেশাগত নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'সমাজকর্ম', যা বর্তমান জটিল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পাঠ করা অত্যন্ত আবশ্যক।
আধুনিক শিল্পায়িত ও নগরকেন্দ্রিক সমাজে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন গতিশীল হয়েছে, তেমনি নানামুখী জটিল ব্যক্তিগত, দলীয় ও সামাজিক সমস্যারও উদ্ভব হয়েছে। এসব বহুমুখী সমস্যার কার্যকর মোকাবেলায় সমাজকর্ম পাঠের আবশ্যকতা অপরিসীম:
১. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ: সমাজকর্ম পাঠের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যাগুলোর মূল কারণ ও গতিপ্রকৃতি বৈজ্ঞানিক উপায়ে অনুধাবন করা যায়।
২. পেশাগত দক্ষতা অর্জন: সমাজকর্মে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক মাঠকর্মের সুযোগ থাকায় বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পেশাগত দক্ষতা তৈরি হয়।
৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন: অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজকর্ম তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে।
৪. কার্যকর সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন: সমাজকর্ম পাঠ দেশকে কল্যাণমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ, কল্যাণময় ও টেকসই সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমাজকর্ম পাঠের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও