‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কত সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন ভারত শাসন আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ভারত শাসন আইন অনুসারে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা হলো ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি এবং তাদের ধর্ম, কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বটি সুস্পষ্টভাবে প্রচার করেন। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই তিনি মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি বা রাষ্ট্রের দাবি তোলেন, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ—প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা, সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত এবং কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন—হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রথমবারের মতো একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয় এবং ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন বিলুপ্ত করে সেখানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন চালু করা হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয় এবং সাংবিধানিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত (Federal Court) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ও অর্থবহ ছিল না।

    তাত্ত্বিকভাবে, এই আইনের মাধ্যমে ১৯১৯ সালের আইনে প্রদেশে প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রদেশসমূহকে স্বায়ত্তশাসন ও দায়িত্বশীল সরকার পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রাদেশিক বিষয়গুলোতে নির্বাচিত ভারতীয় মন্ত্রীদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয় এবং আইনসভার নিকট তাদের জবাবদিহিতার বিধান রাখা হয়।

    কিন্তু বাস্তবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল সীমাবদ্ধ ও প্রহসনমূলক, যার কারণসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. গভর্নরের সীমাহীন ক্ষমতা: প্রাদেশিক গভর্নরকে ব্যাপক স্ববিবেচনামূলক ও ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধিভিত্তিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। গভর্নর যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য বা বাতিল করতে পারতেন।
    ২. অর্থ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ: প্রাদেশিক অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর গভর্নরের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। ফলে মন্ত্রীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আর্থিক সুযোগ ছিল না।
    ৩. আইন তৈরির ক্ষমতা: গভর্নর নিজ ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশ বা আইন জারি করতে পারতেন এবং প্রাদেশিক আইনসভার পাস করা যেকোনো বিল স্থগিত বা বাতিল করতে পারতেন।
    ৪. শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা: আইনটির ৯৩ ধারা অনুসারে গভর্নর কোনো প্রদেশে সাংবিধানিক শাসন ব্যর্থ হয়েছে মর্মে সমস্ত শাসনক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন।

    উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে নামমাত্র স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ব্রিটিশ প্রতিনিধি প্রাদেশিক গভর্নরগণ। তাই বলা যায়, এ আইনের অধীনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি অকার্যকর ও প্রহসনে পরিণত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন