যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    মনের মৌলিক অনুভূতিগুলোর ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিত্র-২ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়কে সহজ, বোধগম্য ও সুস্পষ্ট করে প্রকাশ করাই হলো ব্যাখ্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনের মৌলিক অনুভূতিগুলো (যেমন- সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা ইত্যাদি) নিতান্তই আত্মগত ও সরল অবস্থা, যেগুলোকে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো সরলতর উপাদানে ভাগ করা যায় না কিংবা কোনো সাধারণ নিয়মের অধীনে আনা যায় না। ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো জটিল বিষয়কে বিশ্লেষণ করা বা উচ্চতর সাধারণ নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হয়। যেহেতু মৌলিক অনুভূতিগুলো কোনো মিশ্র বা জটিল রূপ নয় এবং এদের কোনো সার্বিক প্রজাতি নেই, তাই এদের ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি অন্যতম সীমাবদ্ধতা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' (Analysis) রূপটি ফুটে উঠেছে।

    যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তিনটি রূপ বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়: বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন এবং অন্তর্ভুক্তি। যখন কোনো জটিল বা মিশ্র কার্যকে তার সরল বা পৃথক পৃথক কারণগুলোতে বিভক্ত করে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বিশ্লেষণ বলে।

    উদ্দীপকের চিত্র-১ এ লক্ষ্য করা যায় যে, 'পায়েস' একটি মিশ্র কার্য বা জটিল রূপ। এই পায়েসকে এর অন্তর্নিহিত মৌলিক উপাদানসমূহ—চাল, দুধ, চিনি, লবণ ও তাপ ইত্যাদিতে পৃথক বা বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ একটি সামগ্রিক বা জটিল ঘটনাকে তার উপাদান কারণগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সুতরাং, চিত্র-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' রূপটি সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' (Intermixture/Concatenation of laws) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা কার্যকারণ সম্পর্ক সঠিকভাবে নির্ণয় ও অনুধাবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    শৃঙ্খলযোজন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো দূরবর্তী কারণ এবং চূড়ান্ত কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ক্রমিক বা ধারাবাহিক কারণগুলোকে যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকারণ শৃঙ্খল তৈরি করা হয়। চিত্র-২ এ 'সুশাসন' হলো দূরবর্তী কারণ এবং 'সমৃদ্ধি' হলো তার কার্য। এর মাঝে প্রশ্নবোধক চিহ্নে মধ্যবর্তী কার্যকারণ পর্যায়গুলো নির্দেশিত হয়েছে (যেমন—সুশাসন → রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগ বৃদ্ধি → কর্মসংস্থান সৃষ্টি → দেশের সমৃদ্ধি)।

    কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. কোনো দূরবর্তী কারণ সরাসরি কীভাবে একটি কার্য সৃষ্টি করে, তা সাধারণ দৃষ্টিতে অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে মধ্যবর্তী ধাপগুলো উন্মোচন করে সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ যোগসূত্রটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
    ২. মধ্যবর্তী কারণগুলোর সঠিক বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো ঘটনা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অসম্পূর্ণ থাকে। এটি ঘটনার অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্বন্ধকে বিভ্রান্তিমুক্ত করে।
    ৩. এর মাধ্যমে কার্যকারণের আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আবশ্যিক নিয়মের শৃঙ্খল আবিষ্কার করা সম্ভব হয়।

    সুতরাং, কোনো ঘটনার দূরবর্তী কারণ থেকে চূড়ান্ত কার্যের উৎপত্তি কীভাবে ঘটে তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ এবং সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্ক অনুধাবনে চিত্র-২ এ প্রদর্শিত শৃঙ্খলযোজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন