সাহিত্য পাঠ • জাদুঘরে কেন যাব • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
রবিন মফস্বলের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র। সে তার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'সংকল্প' কবিতার "দেখব এবার জগতটাকে" চরণটির প্রতি অনুরক্ত। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়। প্রিয় কবির জগৎটাকে দেখার ইচ্ছায় সে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দেখতে যায়। এতে জ্ঞানপিপাসু মনে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐতিহাসিক তত্ত্ব সম্পর্কেও জানতে পারে।
- ক)(1)
'কোহিনুর' দেখতে সকলে কোথায় ভিড় করে?
- খ)(2)
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কখন ও কীভাবে গড়ে ওঠে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও 'জাদুঘরে কেন যাব' রচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ভাবগত পার্থক্য কতটুকু? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
"মানব জাতির আত্মপরিচয় তুলে ধরায় জাদুঘরের ভূমিকা অনস্বীকার্য।"- বক্তব্যটি কি সমর্থনযোগ্য? উদ্দীপক ও 'জাদুঘরে কেন যাব' রচনার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কোহিনুর' দেখতে সকলে লন্ডনের টাওয়ারে ভিড় করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৩ সালের ৭ই আগস্ট ঢাকার সচিবালয়ে একটি ছোট কক্ষে তৎকালীন ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর রূপে গড়ে ওঠে।
তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ঢাকা জাদুঘরের উদ্বোধন করেছিলেন। বহু বিশিষ্টজনের দান ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রাহকদের সহায়তায় এটি সমৃদ্ধ হয় এবং ১৯৮৩ সালে শাহবাগের আধুনিক ও সুপরিসর ভবনে জাতীয় জাদুঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুতে ব্যক্তিগত ভ্রমণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'জাদুঘরে কেন যাব' রচনার মূল বক্তব্য— জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক সংরক্ষণ ও সামাজিক ভূমিকার পরিধির তুলনায় ভিন্ন ভাব প্রকাশ করে।
'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, জাদুঘর হলো মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বৈজ্ঞানিক ও শৈল্পিক নিদর্শন এক ছাদের নিচে সুরক্ষিত রাখার এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সর্বসাধারণের আত্মপরিচয় ও বোধের বিকাশ ঘটায়। সেখানে অতীত ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে এক স্থানে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে উদ্দীপকে রবিনের বিষয়টি ব্যক্তিগত কৌতূহল ও শখ থেকে ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে ঘুরে প্রত্নতাত্ত্বিক জ্ঞান আহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। রবিন সরাসরি স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা লাভ করে, কিন্তু 'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে মানুষের সামগ্রিক ইতিহাস, আত্মপরিচয় গঠন এবং জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দার্শনিক ও সামাজিক প্রয়োজনীয়তার বিস্তারিত দিক তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের আনন্দ ও জ্ঞানের মধ্যে নিবদ্ধ, যা জাদুঘরের প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক পরিধি থেকে কিছুটা ভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মানব জাতির আত্মপরিচয় তুলে ধরায় জাদুঘরের ভূমিকা অনস্বীকার্য"— বক্তব্যটি সর্বতোভাবে সমর্থনযোগ্য।
'জাদুঘরে কেন যাব' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আনিসুজ্জামান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাদুঘর কেবল প্রাচীন জিনিসপত্র প্রদর্শনের জায়গা নয়, এটি মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ ও একটি জাতির সামগ্রিক আত্মপরিচয় সংরক্ষণের কেন্দ্র। অতীতে মানুষ কেমন ছিল, তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে— জাদুঘরে সংগৃহীত ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো তা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে। মানুষ জাদুঘরে গিয়ে নিজের অতীত ইতিহাস জানতে পারে এবং এর মাধ্যমে নিজেদের শেকড় ও জাতির আত্মপরিচয় সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে।
উদ্দীপকের রবিনও মানবসভ্যতার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন স্বচক্ষে দেখার মাধ্যমে জাতির প্রাচীন গৌরব ও তত্ত্বকে জানতে পেরেছে। তবে বিভিন্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিদর্শনগুলো দেখার চেয়ে জাদুঘরে এক ছাদের নিচে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ইতিহাস প্রত্যক্ষ করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। জাদুঘরের মাধ্যমেই মানুষ তার পূর্বপুরুষের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতা অনুধাবন করে বর্তমানকে চিনতে পারে এবং ভবিষ্যতের প্রেরণা পায়।
অতএব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঠিক রূপ উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা ও গৌরব জাগ্রত করে নিজের শেকড় চেনাতে জাদুঘরের বিকল্প নেই। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও