ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. মওলা চাকরির পাশাপাশি একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। সেই সুবাদে তিনি আইসিবি থেকে লভ্যাংশ বাবদ একটি চেক পান যেখানে লিখা ছিল 'মি. মওলাকে' ৫০০০ টাকা প্রদান করুন। মি. মওলা অফিসের দারোয়ানকে চেকের টাকা তুলতে ব্যাংকে পাঠালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংক আইনের দোহাই দিয়ে টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় এবং চেকের উল্টো পিঠে একটি স্বাক্ষর আনতে বলে
- ক)(1)
বাসি চেক কী?
- খ)(2)
বাহক চেক হুকুম চেক অপেক্ষা কম নিরাপদ কেন?
- গ)(3)
মি. মওলার প্রাপ্ত চেকটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. মওলাকে ব্যাংক টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায় কেন? এর যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইস্যুর তারিখ হতে সাধারণত ৬ মাস বা ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর যে চেক ব্যাংকে উপস্থাপিত হয়, তাকে বাসি চেক বা স্টেল চেক (Stale Cheque) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাহক চেকের ক্ষেত্রে যে-কেউ চেকটি উপস্থাপন করলেই ব্যাংক কোনো প্রকার পরিচিতি বা স্বাক্ষর যাচাই ছাড়াই অর্থ প্রদান করে, তাই এটি হুকুম চেক অপেক্ষা কম নিরাপদ।
বাহক চেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বাধ্যতামূলক নয় এবং তা হারিয়ে গেলে যে ব্যক্তি কুড়িয়ে পাবে, সে সহজেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারে। অন্যদিকে হুকুম চেকে নির্দিষ্ট প্রাপকের নাম উল্লেখ থাকে এবং অর্থ উত্তোলনের সময় প্রাপকের স্বাক্ষর ও পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে বাহক চেকে অর্থ খোয়া যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. মওলার প্রাপ্ত চেকটি ছিল একটি 'হুকুম চেক' (Order Cheque)।
যে চেকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তাঁর আদেশানুসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের নির্দেশ থাকে, তাকে হুকুম চেক বলে। এ ধরনের চেকে সাধারণত প্রাপকের নামের শেষে 'বা তার আদেশানুসারে' (or order) কথাটি লেখা থাকে অথবা বাহক কথাটি কেটে দেওয়া থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চেকের গায়ে লেখা ছিল 'মি. মওলাকে ৫০০০ টাকা প্রদান করুন'। এটি নির্দিষ্টভাবে মি. মওলার অনুকূলে ইস্যু করা হয়েছে। এ ধরনের চেক কোনো তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ব্যাংক তখনই অর্থ দেবে, যদি মূল প্রাপক চেকটির পেছনে অনুমোদন বা স্বাক্ষর করে তাকে দায়িত্ব দেন। সুতরাং, মি. মওলার প্রাপ্ত চেকটি একটি হুকুম চেক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুকুম চেকের অর্থ মূল প্রাপক ব্যতীত অন্য কেউ তুলতে এলে চেকের পেছনে মূল প্রাপকের অনুমোদন স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক; তা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃক টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ যথার্থ ও আইনসঙ্গত হয়েছে।
ব্যাংক আইনের (The Negotiable Instruments Act, 1881) বিধান অনুযায়ী, হুকুম চেকের টাকা কেবল চেকে উল্লিখিত ব্যক্তিই উত্তোলন করতে পারেন। যদি চেকে উল্লিখিত প্রাপক নিজে উপস্থিত না হয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে টাকা তুলতে চান, তবে প্রাপককে চেকের উল্টো পিঠে স্বাক্ষর বা পৃষ্ঠাঙ্কন (Endorsement) করে অধিকার হস্তান্তর করতে হয়।
উদ্দীপকে মি. মওলার প্রাপ্ত চেকটি ছিল হুকুম চেক। মি. মওলা নিজে ব্যাংকে না গিয়ে অফিসের দারোয়ানকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ানের কাছে পাঠানোর আগে মি. মওলা চেকের পেছনে কোনো অনুমোদন বা স্বাক্ষর করেননি। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দারোয়ানকে বৈধ অর্থগ্রহীতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং চেকের উল্টো পিঠে স্বাক্ষর আনতে বলেছে।
যদি ব্যাংক এই অবস্থায় যাচাই ছাড়া টাকা প্রদান করত, তবে তা হতো বেআইনি এবং এর দায়ভার ব্যাংকের ওপরই বর্তাত। সুতরাং, গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা ও ব্যাংকিং নিয়মরীতি রক্ষার্থে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যথার্থ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও