অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের কৃষিতে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে উপকূলীয় এলাকা ধান চাষের আওতায় এসেছে। দ্রুত বর্ধনশীল শস্যের জাত উদ্ভাবনের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা দূর হয়েছে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সরকার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যশস্য আমদানি, অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও কৃষি গবেষণার উপর গুরুত্ব দিয়েছে।
- ক)(1)
নিরাপদ খাদ্য কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে যে সকল কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিরাপদ খাদ্য কর্মসূচির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য ক্ষতিকর নয়, যা প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং সকল প্রকার ভেজাল ও দূষণমুক্ত, তাকে নিরাপদ খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং সীমিত জমিতে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদে সময় ও শ্রম বেশি লাগে কিন্তু উৎপাদন কম হয়। তাই উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসলের অপচয় রোধে কৃষক এখন উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড বীজ, আধুনিক সেচপাম্প, রাসায়নিক ও জৈব সার, কীটনাশক এবং পাওয়ার টিলার ও কম্বাইন হারভেস্টারের মতো আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে মূলত কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সরকারের খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, কৃষি গবেষণার মাধ্যমে প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন: লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করে উপকূলীয় অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনা হয়েছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল শস্যের জাত উদ্ভাবন করে মঙ্গা দূরীকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার: খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধির জন্য আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতা ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ: খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার কর্তৃক সরাসরি খাদ্যশস্য আমদানি এবং কৃষকদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যা আপৎকালীন মজুত গড়ে তুলতে সহায়তা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের যে বহুমুখী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী।
একটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি মাত্রা হলো খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের সহজলভ্যতা/ক্রয়ক্ষমতা এবং খাদ্যের যথাযথ ব্যবহার ও পুষ্টিমান। উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচিগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে:
১. গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহনশীল জাত উপকূলীয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে আবাদযোগ্য করেছে, যা জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে বড় অবদান রাখছে।
২. দ্রুত বর্ধনশীল জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের চিরাচরিত মঙ্গা বা মৌসুমি খাদ্য সংকট দূর করা সম্ভব হয়েছে।
৩. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যের অভ্যন্তরীণ প্রাপ্যতা বেড়েছে।
৪. সরকার কর্তৃক অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানির ফলে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারদর স্থিতিশীল থেকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকছে।সুতরাং, দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে টেকসই রূপ দিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মসূচিগুলোর যথার্থতা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও