‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রাফি একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু বিষয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে তার বাবার কাছে পরামর্শ চাইল। তিনি তার সন্তানকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন। তখন রাফি তার বাবাকে বলল, এ বিষয়ে অনার্স পড়ার তো কোনো সুযোগ নেই। রাফির বাবা বললেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতর একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ আছে।

  1. ক)

    কোন ভাষায় নগরকে 'পুর' বা 'পুরী' বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    'পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান'- বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাফির বাবা যে বিষয়টি বেছে নেওয়ার দিয়েছিলেন তার বিষয়বস্তু পরামর্শ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংস্কৃত ভাষায় নগরকে 'পুর' বা 'পুরী' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৌরনীতি মূলত নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা করে বলেই একে 'নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান' বলা হয়।

    অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইটের মতে, পৌরনীতি হলো জ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা যা নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিক হিসেবে কীভাবে অধিকার ভোগ করতে হবে এবং সমাজের প্রতি কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে—তা পৌরনীতিতেই স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাফির বাবা তাকে যে বিষয়টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা হলো ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’।

    পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল বিষয়বস্তু নাগরিক এবং নাগরিকতা সংক্রান্ত বিষয়াদিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে। এর প্রধান দিকগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য: নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কী কী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করা যায় এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যসহ কী কী দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা আলোচনা করে।
    ২. নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: নাগরিক জীবনের ক্রমবিকাশ এবং ভবিষ্যতে নাগরিক সমাজ কেমন হওয়া উচিত, তা পর্যালোচনা করে।
    ৩. নাগরিক জীবনের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান: পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সংবিধান এবং সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।
    ৪. সুশাসন ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বৈশ্বিক সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয় দুটি হলো ‘পৌরনীতি’ এবং ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’, যাদের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।

    পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং এদের মূল প্রতিপাদ্য হলো মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্র। পৌরনীতি যেখানে নাগরিকের আচরণ, অধিকার ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডকে বিশেষ প্রাধান্য দেয়, সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের তত্ত্ব, সংগঠন, সরকার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা করে। ফলে এদের লক্ষ্য মূলত একই—উত্তম ও শান্তিময় নাগরিক জীবন গড়ে তোলা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফির বাবা তাকে সুনাগরিকতার গুণাবলি অর্জনের জন্য যে বিষয়টি পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন তা হলো পৌরনীতি। পরবর্তীতে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় এর সমজাতীয় ও ঘনিষ্ঠ বিষয় হিসেবে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’-এর কথা উল্লেখ করা হয়। তাত্ত্বিকভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো পৌরনীতির একটি বিস্তৃত রূপ। রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া নাগরিক তার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, আবার সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সার্বিক বিকাশ সম্ভব নয়। এই কারণে অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী পৌরনীতিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অপরিহার্য প্রাথমিক পাঠ হিসেবে বিবেচনা করেন।

    পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটির আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যা তাদের পারস্পরিক গভীর সম্পর্ককেই প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন