ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে কামাল, আলম ও জামাল তিন বন্ধু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ‘অহনা রেস্তোরাঁ’ নামে একটি খাবারের হোটেল চালু করেন। জামাল কোনো মূলধন সরবরাহ করেনি। তবে তিনি ব্যবসায়ের যাবতীয় কার্যাবলির সম্পাদন করেন। ২০১৮ সালের শুরুতে মুনাফা বণ্টন নিয়ে জামালের সাথে অপর দুই বন্ধুর মনোমালিন্য দেখা দিলে জামাল এ ব্যবসায়ে আর সদস্য থাকবে না বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দেন।
- ক)(1)
অংশীদারি চুক্তিপত্র কী?
- খ)(2)
অংশীদারদের অসীম দায় বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ে জামাল কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী ‘অহনা রেস্তোরাঁ’কে টিকিয়ে রাখা যাবে কী? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারি কারবার পরিচালনার জন্য অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব ও শর্তাবলি সংবলিত যে লিখিত দলিল প্রস্তুত করা হয়, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারদের অসীম দায় বলতে বোঝায় ব্যবসায়ের দেনা বা দায়ের পরিমাণ কারবারের মোট মূলধনের চেয়ে বেশি হলে তা পরিশোধে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায়ী হওয়া।
সাধারণ অংশীদারি কারবারে অংশীদারদের দায় সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যবসায় কোনো কারণে লোকসান বা অতিরিক্ত দেনাগ্রস্ত হলে কারবারের পরিসম্পদ দিয়ে তা মেটানো সম্ভব না হলে অংশীদারদের ব্যক্তিগত অর্থ বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই ঋণ বা দায় পরিশোধ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ে জামাল হলেন একজন 'কর্মী অংশীদার' (Working Partner)।
যে অংশীদার কারবারে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেন না, কিন্তু নিজের দক্ষতা, শ্রম ও সময় দিয়ে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার অংশ বা নির্দিষ্ট বেতন/সুবিধা গ্রহণ করেন, তাকে কর্মী অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কামাল, আলম ও জামাল তিন বন্ধু মিলে 'অহনা রেস্তোরাঁ' চালু করলেও জামাল কোনো মূলধন সরবরাহ করেননি। তবে তিনি ব্যবসায়ের যাবতীয় কার্যাবলি নিজেই সম্পাদন ও পরিচালনা করতেন। মূলধন না দিয়ে কেবল সক্রিয় শ্রম ও দায়িত্ব পালন করে অংশীদার হওয়ার এই বৈশিষ্ট্যটি কর্মী অংশীদারের সংজ্ঞাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন ও উদ্দীপকের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদ্যমান তিনজনের ঐচ্ছিক অংশীদারি হিসেবে 'অহনা রেস্তোরাঁ'র বর্তমান রূপটি বিলুপ্ত হবে, তবে অবশিষ্ট দুই অংশীদার চাইলে পুনর্গঠনের মাধ্যমে এটিকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।
উদ্দীপকে কামাল, আলম ও জামালের রেস্তোরাঁটি পারস্পরিক সমঝোতাভিত্তিক এবং অনির্দিষ্ট মেয়াদের হওয়ায় এটি মূলত একটি 'ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়'। ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো অংশীদার ব্যবসায়ের অন্য সকল অংশীদারের কাছে কারবার বিলোপের লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিলে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ থেকে কারবারটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে মুনাফা বণ্টন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় জামাল কারবারে আর থাকবেন না বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দেন। এর ফলে তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত মূল প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিকভাবে আইনগত বিলোপ ঘটবে।
তবে কামাল ও আলম যদি কারবারটি বন্ধ না করে চালিয়ে নিতে একমত হন, তবে তাঁরা জামালের পাওনা হিস্যা মিটিয়ে দিয়ে এবং পারস্পরিক নতুন চুক্তির মাধ্যমে অবশিষ্ট দুইজনের মধ্যে কারবারটি চালু রাখতে পারেন। অর্থাৎ, জামালকে বাদ দিয়ে অংশীদারি কারবারটি নতুন চুক্তির ভিত্তিতে পুনর্গঠন করে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
অতএব, জামালের লিখিত নোটিশের কারণে বিদ্যমান ত্রয়ী অংশীদারিটি টিকিয়ে রাখা যাবে না; তবে কামাল ও আলমের যৌথ উদ্যোগে নতুন চুক্তির মাধ্যমে 'অহনা রেস্তোরাঁ'কে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও