জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত একটি রন্ধ্রের মাধ্যমে পানি তরলাকারে নির্গত হলেও অন্য আরেকটি রন্ধ্রের মাধ্যমে পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয় এবং রন্ধ্রটির খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষী কোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

  1. ক)

    পেরিসাইকেল কী?

    (1)
  2. খ)

    অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমোক্ত রন্ধ্রটির গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অন্ততকের (endodermis) নিচে এবং ভাস্কুলার বান্ডলের বাইরে অবস্থিত এক বা একাধিক স্তরে সজ্জিত বিশেষ প্যারেনকাইমা বা স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত স্তরকে পেরিসাইকেল (Pericycle) বা পরিচক্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সবাত শ্বসনের ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে (ETC) উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রন এক বাহক থেকে অন্য বাহকে স্থানান্তরের সময় যে শক্তি নির্গত হয়, সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ADP-এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন (Oxidative Phosphorylation) বলে। মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তর্বৈশিষ্ট্যমূলক ক্রিস্টিতে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় এবং ইলেকট্রনের চূড়ান্ত গ্রাহক হিসেবে আণবিক অক্সিজেন পানি গঠন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথমোক্ত রন্ধ্রটি হলো হাইডাথোড (Hydathode) বা পানিপত্ররন্ধ্র। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. রন্ধ্র বা ছিদ্র: হাইডাথোড সাধারণত পাতার কিনারায় অবস্থিত একটি বিশেষ সূক্ষ্ম রন্ধ্র। এই রন্ধ্রটি দুটি নিষ্ক্রিয় রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে, যা সবসময় উন্মুক্ত থাকে।
    ২. এপিথেম (Epithem): রন্ধ্রের ঠিক নিচেই কোষান্তর অবকাশযুক্ত, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্টবিহীন বহু প্যারেনকাইমা কোষের একটি বিশেষ সমাহার থাকে, যাকে এপিথেম বলে। এটি পানি ও খনিজ উপাদান সঞ্চয় ও পরিবহনে ভূমিকা রাখে।
    ৩. ট্রাকিড বা জাইলেম প্রান্ত: এপিথেমের নিচের দিকে পাতার শিরার জাইলেম নালিকা বা ট্রাকিডের প্রান্ত এসে শেষ হয়। মূলজ চাপের ফলে জাইলেম দিয়ে বাহিত পানি এপিথেমে প্রবেশ করে এবং পরিশেষে হাইডাথোড ছিদ্র দিয়ে তরল আকারে ফোঁটায় ফোঁটায় বাইরে নির্গত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটিতে পত্ররন্ধ্র (Stoma) এবং এর খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষী কোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া সম্পূর্ণভাবে রক্ষী কোষের (Guard cells) স্ফীতি (turgidity) এবং শিথিলতার (flaccidity) ওপর নির্ভর করে। রক্ষী কোষ দুটির ভেতরের প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও প্রসারণশীল।

    ১. পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হওয়া: আধুনিক প্রোটন-প্রবাহ মতবাদ (Steward/Levitt) অনুযায়ী দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে রক্ষী কোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে অথবা নীল আলোর উদ্দীপনায় রক্ষী কোষের প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত প্রোটন পাম্প সক্রিয় হয়। ফলে রক্ষী কোষ থেকে H+ বাইরে নির্গত হয় এবং পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পটাশিয়াম আয়ন (K+) ও পানি রক্ষী কোষে প্রবেশ করে। এর ফলে রক্ষী কোষের অভিস্রবণিক চাপ ও স্ফীতিচাপ বৃদ্ধি পায়। কোষ দুটি স্ফীত হলে এদের পাতলা বহিঃপ্রাচীর বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং পুরু অন্তঃপ্রাচীরটি ভেতরের দিক থেকে দূরে সরে যায়, ফলে পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়।

    ২. পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়া: অন্ধকারে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে এবং প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। রক্ষী কোষ থেকে K+ এবং ক্লোরাইড আয়ন নির্গত হয়ে পার্শ্ববর্তী কোষে চলে যায়। এতে রক্ষী কোষের পানি বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বাইরে বের হয়ে যায়। ফলে রক্ষী কোষের স্ফীতি হ্রাস পায় এবং কোষ দুটি শিথিল হয়ে পরস্পরের সংস্পর্শে আসে, যার ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

    অতএব, রক্ষী কোষের ভেতরে রসস্ফীতির পরিবর্তনই মূলত পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন