যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
Dichotomy শব্দটি কোন দুটি গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত?
- খ)(2)
যৌক্তিক বিভাগের সীমা বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
ছক-১ কোন ধরনের বিভাগ প্রক্রিয়া? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-২ ও ছক-৩ এর বিভাজন প্রক্রিয়ার সাথে যৌক্তিক বিভাগের পার্থক্য নিরূপণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Dichotomy' শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ 'Dicha' (যার অর্থ দুই ভাগে) এবং 'Temnein' (যার অর্থ কাটা বা বিভক্ত করা) থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মসমূহ প্রয়োগ করা যায় না বা যে ক্ষেত্রগুলোতে কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয়, তাকে যৌক্তিক বিভাগের সীমা বলে।
যৌক্তিক বিভাগ কেবল জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ক্ষেত্রেই সম্ভব। কোনো বিশিষ্ট বা একক পদ, পরাতম জাতি (যার কোনো উচ্চতর জাতি নেই), ক্ষুদ্রতম উপজাতি (যার কোনো অবর উপজাতি নেই) এবং কোনো বস্তুর গুণাবলি বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে যৌক্তিক বিভাগ করা যায় না। অর্থাৎ, যৌক্তিক নিয়মাবলির সাহায্যে যেসব ক্ষেত্রে বিভাজন করা সম্ভব নয়, সেগুলোই যৌক্তিক বিভাগের সীমাভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ এ প্রদর্শিত প্রক্রিয়াটি হলো 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)।
কোনো একটি নীতি বা গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো জাতিকে দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ বা বিরোধী উপজাতিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে দ্বিকোটিক বিভাগ বলে। এ প্রক্রিয়ায় একটি বিভাগ সদর্থক এবং অন্যটি নঞর্থক হয়।
ছক-১ এ 'ছাত্র' শ্রেণিটিকে মনোযোগের উপস্থিতির ভিত্তিতে 'মনোযোগী' এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে 'অমনোযোগী'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে 'মনোযোগী' ছাত্রকে পুনরায় মেধার উপস্থিতির ভিত্তিতে 'মেধাবী' এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে 'অমেধাবী'—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এখানে প্রতি ধাপে একটি পদের সদর্থক ও নঞর্থক গুণের ভিত্তিতে দুটি বিরোধী উপজাতিতে রূপান্তর করা হয়েছে, তাই এটি দ্বিকোটিক বিভাগের একটি যথার্থ উদাহরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-২ এ প্রদর্শিত প্রক্রিয়াটি হলো 'অঙ্গগত বিভাগ' এবং ছক-৩ এর প্রক্রিয়াটি হলো 'গুণগত বিভাগ'। এ দুটি প্রক্রিয়াই যৌক্তিক বিভাগ থেকে ভিন্ন। নিচে এদের পার্থক্য নিরূপণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: যৌক্তিক বিভাগ হলো কোনো একটি মূল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি উচ্চতর জাতিকে তার অন্তর্ভুক্ত নিম্নতর উপজাতিগুলোতে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়া। অপরদিকে, একটি একক বস্তুকে তার বিভিন্ন ভৌতিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ভাগ করাকে অঙ্গগত বিভাগ (যেমন- ছক-২ এ দোয়েল পাখিকে ঠোঁট, চোখ, মাথা, লেজে ভাগ) এবং কোনো বস্তুকে তার মৌলিক গুণাবলিতে বিশ্লেষণ করাকে গুণগত বিভাগ (যেমন- ছক-৩ এ লেবুকে রং, স্বাদ, আকার, গন্ধে ভাগ) বলা হয়।
২. পদের প্রয়োগযোগ্যতা: যৌক্তিক বিভাগে মূল জাতিটির নাম বিভক্ত প্রতিটি উপজাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (যেমন- মানুষ = সৎ মানুষ ও অসৎ মানুষ; সৎ মানুষও মানুষ)। কিন্তু অঙ্গগত বা গুণগত বিভাগে মূল সত্তার নাম বিভক্ত অংশের ওপর প্রয়োগ করা যায় না। দোয়েলের ঠোঁটকে বা লেবুর স্বাদকে এককভাবে সম্পূর্ণ 'দোয়েল' বা 'লেবু' বলা যায় না।
৩. শ্রেণিগত বনাম একক সত্তা: যৌক্তিক বিভাগ সর্বদা শ্রেণিবাচক বা জাতিবাচক পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। কিন্তু অঙ্গগত বিভাগ একটি নির্দিষ্ট মূর্ত বস্তুর ক্ষেত্রে এবং গুণগত বিভাগ কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর গুণের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
৪. মানসিক প্রক্রিয়া: যৌক্তিক বিভাগ একটি বিশুদ্ধ যৌক্তিক ও মানসিক প্রক্রিয়া, পক্ষান্তরে অঙ্গগত বিভাগ মূলত কায়িক বা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবচ্ছেদ।
সুতরাং, ছক-২ ও ছক-৩ এ বর্ণিত বিভাজনগুলো অযৌক্তিক বিভাগ (অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ) বিধায় যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের সাথে মৌলিকভাবে ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও