অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জামিলা ঢাকার একটি কারখানায় কাজ করে। তার মতো ৮০০ শ্রমিক এ কারখানায় কাজ করে, যার ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। এ কারখানা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৬% এ শিল্প থেকে অর্জিত হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা এ শিল্পকে সংকটে ফেলেছে, যা দেশের অর্থনীতিসহ জামিলার মতো হাজার হাজার শ্রমিকের দুশ্চিন্তার বিষয় হয়েছে। সরকার রপ্তানিমুখী এ শিল্পের সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। সবার প্রত্যাশা- মহামারি কেটে সুদিন আসবে।

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    পাটকে 'সোনালী আঁশ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির ধরন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রপ্তানিমুখী শিল্প সংকট মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত পদক্ষেপ সময়োপযোগী উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইটেক শিল্প হলো উন্নত জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিল্প, যেখানে উচ্চ কারিগরি দক্ষতা, গবেষণা ও আধুনিক ইলেকট্রনিক বা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাটকে 'সোনালী আঁশ' বলা হয় কারণ এটি সোনালী রঙের মূল্যবান আঁশ এবং বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল যা রপ্তানি করে অতীতে ও বর্তমানে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

    কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য (যেমন- চট, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি) আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে এসেছে। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সোনালী রঙের উজ্জ্বলতার কারণে পাটকে ঐতিহাসিকভাবে 'সোনালী আঁশ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের অন্তর্গত একটি বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠান।

    যে শিল্পে মূলধনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণ শ্রম ব্যবহৃত হয়, তাকে শ্রমঘন শিল্প বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৮০০ জন শ্রমিক কাজ করে যার ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ নারী শ্রমিক। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৭৬%) জোগান দেয় এমন একটি খাতের অংশ।

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্প হলো বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শ্রমঘন খাত, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জন করে এবং লাখ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অদক্ষ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অতএব, উদ্দীপকে জামিলা যে কারখানায় কাজ করে তা মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের একটি প্রতিষ্ঠান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার পদক্ষেপটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কারখানাটি তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্ব করছে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৬% যোগান দেয়। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করে, ফলে কারখানাগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে জামিলার মতো লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার ওপর।

    এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
    ১. শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সচল রাখা: সরকার রপ্তানিমুখী খাতের জন্য নামমাত্র সুদে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করে, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত হয়। এর ফলে জামিলার মতো শ্রমিকদের ছাঁটাই হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
    ২. কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও উৎপাদন চালু রাখা: প্রণোদনার ফলে মালিকপক্ষ চরম আর্থিক ঘাটতি সত্ত্বেও কারখানা চালু রাখতে ও দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়।
    ৩. বৈদেশিক বাণিজ্য ও সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা: রপ্তানি খাত ধ্বংস হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ধস নামত। সরকারি প্রণোদনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে পুনরায় বিশ্ববাজারের চাহিদা পূরণে কারখানাকে প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করেছে।

    সুতরাং, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প ও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন