যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। এই স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য অনেক বুদ্ধিজীবী, বিচক্ষণ ও বিচারশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির প্রাণ দিতে হয়েছে।
- ক)(1)
উপলক্ষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ' কোন ধরনের বিধেয়ক নির্দেশ করে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'বুদ্ধিজীবী ও বিচারশক্তি' শব্দ দ্বারা যে বিধেয়কের উল্লেখ পেয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য কোনো পদের আসন্নতম জাতির অন্তর্ভুক্ত বা আসন্ন লক্ষণ নয়, কিন্তু জাত্যর্থের অনিবার্য ফল হিসেবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত যে পদটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে, তাকে বিধেয় বলে। পক্ষান্তরে, সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার পারস্পরিক যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকে বিধেয়ক বলে।
বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি দৃশ্যমান পদ বা উপাদান। অন্যদিকে বিধেয়ক কোনো পদ নয়, এটি দুটি পদের মধ্যকার সম্পর্কের নাম। তাছাড়া বিধেয় কেবল যুক্তিবাক্যের কাঠামোর অংশ এবং নঞর্থক বাক্যেও থাকতে পারে, কিন্তু বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্বন্ধের প্রকৃতিতেই দেখা যায়। তাই বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত '১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ' বিধেয়ক হিসেবে 'অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ' নির্দেশ করে।
যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়, কেবল বাইরে থেকে আরোপিত বা আকস্মিক, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। কোনো গুণ যখন কেবল কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট থাকে এবং তা কখনো ব্যক্তি বা বিষয় থেকে পৃথক করা যায় না, তখন তাকে অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন—জন্মতারিখ বা জন্মস্থান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ঘটনাটির সাথে '১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ' তারিখটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এই নির্দিষ্ট তারিখটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে কখনো পৃথক বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ফলে এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, যা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যক্তিগত বা একক পরিচায়ক। অতএব, এটি অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'বুদ্ধিজীবী ও বিচারশক্তি' শব্দ দ্বারা যথাক্রমে 'ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ' (বা লক্ষণ) এবং 'উপলক্ষণ'-এর প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এদের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. 'বিচারশক্তি' শব্দের বিশ্লেষণ: যুক্তিবিদ্যায় মানুষের মূল লক্ষণ বা জাত্যর্থ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি' ও 'জীববৃত্তি'। বিচারশক্তি হলো বুদ্ধিবৃত্তির অনিবার্য পরিণতি, যা জাত্যর্থ না হওয়া সত্ত্বেও জাত্যর্থ (বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে সরাসরি নিঃসৃত হয়। যে গুণ জাত্যর্থের অন্তর্ভুক্ত নয় অথচ জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে আসে, তাকে উপলক্ষণ বলে। মানুষ বিচারশক্তিসম্পন্ন—এটি মানুষের একটি জাতিগত উপলক্ষণ।
২. 'বুদ্ধিজীবী' শব্দের বিশ্লেষণ: সকল মানুষ বুদ্ধি বা বিচারশক্তি সম্পন্ন হলেও সবাই পেশাগত বা কার্যকরভাবে 'বুদ্ধিজীবী' নয়। এটি বিশেষ কিছু ব্যক্তির বিশেষ গুণ বা পেশাগত অর্জন। যে গুণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্ত্যর্থের জাত্যর্থ বা তার ফল নয়, বরং অর্জিত বা আপেক্ষিক, তা অবান্তর লক্ষণ। যেহেতু 'বুদ্ধিজীবী' হওয়া মানুষের জন্য আবশ্যকীয় বা স্থায়ী কোনো অপরিবর্তনীয় গুণ নয় এবং তা কোনো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাই এটি বিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ।
সুতরাং, উদ্দীপকের 'বিচারশক্তি' মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত হয়ে 'উপলক্ষণ' বিধেয়ককে এবং 'বুদ্ধিজীবী' অর্জিত গুণ হিসেবে 'অবান্তর লক্ষণ' বিধেয়ককে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও