জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    রক্ত কী?

    (1)
  2. খ)

    পেসমেকার বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    'A' এর কাজের ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    B-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমের উপর আমাদের সুস্থতা নির্ভরশীল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রক্ত হলো এক ধরনের তরল, ক্ষারধর্মী ও লাল বর্ণের যোজক কলা (connective tissue), যা হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে সমগ্র দেহে আবর্তিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পেসমেকার হলো এমন একটি ব্যবস্থা বা অঙ্গ যা হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি ও তার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ তরঙ্গ সৃষ্টি করে হৃদস্পন্দন শুরু ও নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয়। এছাড়া হৃদস্পন্দনে সমস্যা দেখা দিলে কৃত্রিমভাবে ব্যাটারিচালিত একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম পেসমেকার নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী, রক্তের প্রধান দুটি উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। অতএব, 'A' উপাদানটি হলো রক্তরস (Blood Plasma)।

    রক্তরসের প্রধান কাজগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. পুষ্টি উপাদান পরিবহন: পরিপাককৃত সরল খাদ্য উপাদান (যেমন—গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি) দেহের বিভিন্ন কোষে রক্তরসের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়।
    ২. বর্জ্য পদার্থ পরিবহন: কোষের বিপাকীয় ক্রিয়ায় উৎপন্ন রেচন বর্জ্য (যেমন—ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি) বৃক্কে পরিবহনের দায়িত্ব পালন করে।
    ৩. গ্যাসীয় পরিবহন: সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন এবং অধিকাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও পটাশিয়াম বাইকার্বনেট হিসেবে রক্তরসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
    ৪. হরমোন ও উৎসেচক পরিবহন: নালিহীন গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হরমোন ও উৎসেচক রক্তরসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অঙ্গে পৌঁছায়।
    ৫. পানির ভারসাম্য ও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা রক্ষা: দেহের জলীয় অংশের সমতা এবং পিএইচ (pH) বা অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে রক্তরস সহায়তা করে।
    ৬. তাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্তরস দেহের বিভিন্ন অংশে তাপ সমভাবে বণ্টন করে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে রক্তকণিকার তিনটি অংশের মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা উল্লেখ রয়েছে; সুতরাং 'B' উপাদানটি হলো শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Corpuscle বা Leucocyte)। আমাদের সুস্থতা রক্ষার জন্য শ্বেত রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. রোগ প্রতিরোধ ও ফ্যাগোসাইটোসিস: দেহে কোনো রোগজীবাণু বা ক্ষতিকর বাহ্যিক কণা প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকার নিউট্রোফিল ও মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। ফলে শরীর সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়।
    ২. অ্যান্টিবডি উৎপাদন: লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগজীবাণু ধ্বংস করে এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) গড়ে তোলে।
    ৩. অ্যালার্জি ও কৃমি প্রতিরোধ: ইওসিনোফিল হিস্টামিন নিঃসরণ করে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরজীবী বা কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
    ৪. রক্ত জমাট বাঁধা রোধ: বেসোফিল নামক শ্বেত রক্তকণিকা হেপারিন নিঃসরণ করে রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না, যার ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
    ৫. স্বাভাবিক সংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা: রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে (লিউকোসাইটোপেনিয়া) দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে সহজেই ইনফেকশন হতে পারে। আবার অতিরিক্ত বেড়ে গেলে লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রক্তজনিত জটিলতা সৃষ্টি হয়।

    অতএব, শ্বেত রক্তকণিকা দেহের ভ্রাম্যমাণ প্রতিরক্ষা দল (সৈনিক) হিসেবে কাজ করে প্রতিনিয়ত শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখে। কাজেই B তথা শ্বেত রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যক্রমের উপর আমাদের সার্বিক সুস্থতা সরাসরি নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন