জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কার্ডিয়াক চক্র কী?
- খ)(2)
রক্তনালির ভিতরে রক্ততঞ্চন হয় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'P' এবং 'Q' এর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'R' মানবদেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সূচনা করে- প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপিণ্ডের একটি স্পন্দনে এর অলিন্দ ও নিলয়ের একবার সংকোচন (সিস্টোল) এবং একবার প্রসারণের (ডায়াস্টোল) চক্রাকার ধারাবাহিক ঘটনাকে কার্ডিয়াক চক্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাভাবিক অবস্থায় মানবদেহের রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. রক্তরসে হেপারিন (Heparin) নামক অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট বা রক্ততঞ্চন-রোধী উপাদানের উপস্থিতি, যা রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
২. রক্তনালির অভ্যন্তরীণ মসৃণ এন্ডোথেলিয়াম আস্তরণ, যা অণুচক্রিকাকে ভাঙতে বা সক্রিয় হতে বাধা দেয়।
৩. রক্তসংবহনতন্ত্রে রক্তের সার্বক্ষণিক দ্রুত প্রবাহ, যার ফলে তঞ্চন উপাদানগুলো নির্দিষ্ট এক স্থানে জমাট বাঁধার সুযোগ পায় না। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'P' হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC) এবং 'Q' হলো শ্বেত রক্তকণিকা (WBC)। নিম্নে এদের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
১. নিউক্লিয়াস: পূর্ণাঙ্গ লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না; কিন্তু শ্বেত রক্তকণিকায় সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট আকারের নিউক্লিয়াস থাকে।
২. আকার ও আকৃতি: লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল ও গোলাকার চাকতির মতো; শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত অনিয়তাকার এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে আকার পরিবর্তনশীল।
৩. বর্ণ বা রঞ্জক পদার্থ: লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকায় এটি লাল বর্ণের হয়; শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন না থাকায় এটি বর্ণহীন।
৪. সংখ্যা: প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ (প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষে); অপরদিকে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিমিটারে মাত্র ৪,০০০–১১,০০০।
৫. প্রধান কাজ: লোহিত রক্তকণিকা প্রধানত ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা রোগজীবাণু ধ্বংস ও অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে দেহের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।
৬. প্রকারভেদ: লোহিত রক্তকণিকা নির্দিষ্ট এক রূপেই থাকে; তবে শ্বেত রক্তকণিকা গ্র্যানুলোসাইট ও অ্যাগ্র্যানুলোসাইট—এই দুই প্রধান ভাগে এবং মোট ৫টি ধরনে বিভক্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'R' হলো অণুচক্রিকা (থ্রম্বোসাইট বা প্লাটিলেট)। এটি মানবদেহে রক্তক্ষরণ বন্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া 'রক্ততঞ্চন' (Blood Clotting/Coagulation)-এর সূচনা করে। নিম্নে প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো:
রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত বা কেটে গেলে নিম্নলিখিত ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধে:
১. থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি: রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানকার ক্ষতস্থান থেকে এবং বাতাসের সংস্পর্শে ভেঙে যাওয়া অণুচক্রিকা (R) থেকে থ্রম্বোপ্লাস্টিন (Thromboplastin) নামক এনজাইম নিঃসৃত হয়।
২. প্রোথ্রম্বিনের রূপান্তর: নিঃসৃত থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তরসের ক্যালসিয়াম আয়ন ()-এর সহায়তায় নিষ্ক্রিয় প্রোথ্রম্বিনকে সক্রিয় থ্রম্বিনে (Thrombin) পরিণত করে।
[\text{নিষ্ক্রিয় প্রোথ্রম্বিন} \xrightarrow{\text{থ্রম্বোপ্লাস্টিন} + Ca^{2+}} \text{সক্রিয় থ্রম্বিন}]
৩. ফাইব্রিন জালক গঠন: উৎপন্ন সক্রিয় থ্রম্বিন রক্তরসের দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন মনোমারে এবং পরবর্তীতে তা দ্রুত পলিমারাইজড হয়ে একটি সুক্ষ্ম ফাইব্রিন জালক (Fibrin mesh) তৈরি করে।
[\text{ফাইব্রিনোজেন (দ্রবণীয়)} \xrightarrow{\text{থ্রম্বিন}} \text{ফাইব্রিন জালক (অদ্রবণীয়)}]
৪. রক্তপিণ্ড (ক্লট) গঠন: ফাইব্রিন জালকে লোহিত রক্তকণিকাসহ অন্যান্য রক্তকণিকা আটকে যায় এবং রক্ত জমাট বেঁধে ক্ষতমুখ বন্ধ করে দেয়, যাকে রক্ততঞ্চন বা ক্লটিং বলে। এর কিছুক্ষণ পর জমাট রক্ত সংকুচিত হয়ে হালকা হলুদ বর্ণের সিরাম নিঃসরণ করে।সুতরাং, অণুচক্রিকা (R) থ্রম্বোপ্লাস্টিন ক্ষরণের মাধ্যমে মানবদেহের রক্তপাত রোধকারী অপরিহার্য রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়ার সূচনা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও