যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মনোহর গ্রামে গত রাতে সব বাড়িতে চুরি হয়েছে। গ্রামবাসী কে চুরি করেছে তা চিহ্নিত করতে না পেরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা চাইলে, পুলিশ এসে চোরের পায়ের ছাপ, হাতের স্পর্শ এবং চুরির ধরন বিশ্লেষণ করে চোরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।দৃশ্যকল্প-২: বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় হোসেনপুর গ্রামবাসী ধারণা করল যে, করোনা মহামারীর কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে।
- ক)(1)
প্রকল্প কী?
- খ)(2)
আরোহ সমন্বয় বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকল্পের কোন প্রমাণটি নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ কি দৃশ্যকল্প-১ এর মত বাস্তবসম্মত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির কোনো ঘটনা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বা আনুমানিক যে পূর্বধারণা গঠন করা হয়, তাকে যুক্তিবিদ্যায় প্রকল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি প্রকল্প দ্বারা যখন কেবল মূল ঘটনাটিই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপ্রকাশিত ঘটনাও সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তখন তাকে 'আরোহ সমন্বয়' (Consilience of Inductions) বলে। যুক্তিবিদ উইলিয়াম হুয়েলের মতে, আরোহ সমন্বয় একটি প্রকল্পের সত্যতা ও বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের অন্যতম বলিষ্ঠ মানদণ্ড।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকল্পের প্রমাণের 'প্রত্যক্ষ সমর্থন' বা 'সরাসরি যাচাইকরণ' (Direct Verification) নির্দেশ করছে।
যুক্তিবিদ্যায় একটি বৈধ প্রকল্প প্রমাণের অন্যতম উপায় হলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ দ্বারা তার সত্যতা যাচাই করা। যখন আনুমানিক ধারণার সাথে বাস্তব ঘটনার প্রত্যক্ষ মিল পাওয়া যায় এবং বাস্তব প্রমাণের সাহায্যে তা প্রমাণিত হয়, তখন তাকে প্রত্যক্ষ যাচাইকরণ বা সমর্থন বলে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ মনোহর গ্রামের চুরির ঘটনায় পুলিশ চোরের পায়ের ছাপ, হাতের স্পর্শ এবং চুরির ধরনকে প্রত্যক্ষ আলামত বা উপাত্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করে অপরাধীকে সরাসরি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এখানে আনুমানিক ধারণাকে বাস্তব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরাসরি প্রমাণ করা হয়েছে। সুতরাং, এটি প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সমর্থন বা যাচাইকরণের দিকটিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, দৃশ্যকল্প-২ দৃশ্যকল্প-১ এর মতো একই রকম বাস্তবসম্মত ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকল্প নয়; বরং এটি একটি প্রাথমিক ও সাধারণ লোকায়ত অনুমান মাত্র।
একটি প্রকল্পের বাস্তবসম্মত হওয়ার জন্য তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, কার্যকারণ সম্পর্ক এবং তথ্যগত প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা আবশ্যক। দৃশ্যকল্প-১ এ পুলিশ বিজ্ঞানসম্মত ও বাস্তবভিত্তিক উপাত্ত (পায়ের ছাপ, আঙুলের ছাপ, চুরির ধরন) বিচার-বিশ্লেষণ করে চোরকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেছে, যা সরাসরি যাচাইকৃত এবং একটি বৈধ ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকল্প।
পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে করোনা মহামারীকে দায়ী করা হয়েছে কেবলই ধারণার ওপর ভিত্তি করে। এটি জনশ্রুতি বা প্রাথমিক অনুমানভিত্তিক। দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সিন্ডিকেট বা আন্তর্জাতিক বাজারের মতো নানাবিধ কারণ থাকতে পারে। উপযুক্ত তথ্য-উপাত্ত ও নিরীক্ষণ ব্যতীত কেবল মহামারীকে একমাত্র কারণ নির্ধারণ করায় এটি এখনও যাচাইকৃত নয় এবং এতে সহকার্যকে কারণ মনে করার মতো ভ্রান্তি থাকতে পারে।
অতএব, বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ ও কার্যকর যাচাইকরণের অভাবের কারণে দৃশ্যকল্প-২ এর প্রকল্পটি দৃশ্যকল্প-১ এর মতো নিশ্চিত ও বাস্তবসম্মত নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও