অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সাম্প্রতিককালে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেজন্য এসব খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অনেক সময় দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার বৈদেশিক সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও ঋণ নেয়।
- ক)(1)
সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
- খ)(2)
মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের ঋণ উত্তম বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের আয়-ব্যয় এবং ঋণ সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক কার্যাবলি ও নীতিমালা পরিচালনা ও পর্যালোচনা করার প্রক্রিয়াকে সরকারি অর্থব্যবস্থা (Public Finance) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্য সংযোজন করকে (ভ্যাট) পরোক্ষ কর বলা হয় কারণ এর প্রাথমিক করভার এবং চূড়ান্ত করঘাত ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে। সরকার উৎপাদনকারী বা বিক্রেতার ওপর এই কর ধার্য করলেও তারা পণ্য বা সেবার মূল্যের সাথে তা যুক্ত করে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। ফলে চূড়ান্তভাবে পণ্যের ভোক্তা বা ক্রেতাই এই কর পরিশোধ করে। করের দায় এভাবে অন্যের ওপর স্থানান্তরিত হয় বলেই মূল্য সংযোজন কর একটি পরোক্ষ কর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারি ব্যয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের উল্লেখ রয়েছে—শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা।
১. শিক্ষা খাত: এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল ভিত্তি। একটি দেশের নাগরিকদের দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং উপবৃত্তি প্রদানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
২. প্রতিরক্ষা খাত: দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় এবং সদস্যদের বেতন-ভাতা নির্বাহে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা খাত: দরিদ্র, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই খাতে ব্যয় করা হয়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে: অভ্যন্তরীণ ঋণ (দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে গৃহীত) এবং বৈদেশিক ঋণ (বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে গৃহীত)।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের মূল ও সুদ দেশের ভেতরেই হস্তান্তরিত হয়, ফলে জাতীয় সম্পদ বাইরে চলে যায় না এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রার মান স্থিতিশীল থাকে। এতে কোনো বৈদেশিক শর্তের ঝুঁকি থাকে না। তবে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত (crowding-out effect) হতে পারে। অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মূলধন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে এবং প্রায়শই ঋণদাতা দেশের নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত মেনে নিতে হয়।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উত্তম ঋণ:
বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ অধিক উত্তম ও নিরাপদ। কারণ অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং নির্দিষ্ট শর্তের কড়াকড়ি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। যদিও বড় অবকাঠামো নির্মাণে সহজ শর্তযুক্ত দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক বৈদেশিক ঋণ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, তবুও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বনির্ভরতার স্বার্থে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করাই বাংলাদেশের জন্য শ্রেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও