ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিন তার জারিন প্লাস্টিক কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে দেখলেন উৎপাদন বিভাগের কর্মীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে মনোযোগ সহকারে কাজ করছে। প্যাকেজিং বিভাগে কর্মীরা দু'একজন কাজ করছে। দু'চারজন খোশগল্পে মাতোয়ারা। এ অবস্থা দেখে তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ডেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সকলকে সতর্ক করে চলে গেলেন।
- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
প্রেষণার চক্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জারিন তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রেষণার কোন তত্ত্বের সাথে কর্মীদের আচরণের মিল খুঁজে পেলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটিতে জারিন এর গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কর্মীদের মধ্যে কি কি পরিবর্তন হতে পারে বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত ও কর্মমুখী করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেষণার প্রক্রিয়াটি মানুষের অপূর্ণ অভাব বা প্রয়োজন থেকে শুরু হয়ে অভাব পূরণের মাধ্যমে শেষ হয় এবং তা চক্রাকারে আবর্তিত হয়—এ ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকেই প্রেষণার চক্র বলে।
মানুষের অভাববোধ থেকে মানসিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই উত্তেজনা কর্মীকে চালিকাশক্তি বা কার্যে প্রণোদনা দেয়। এরপর নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে অভাব পূরণ ঘটে এবং সাময়িক সন্তুষ্টি আসে। একটি অভাব পূরণের পর মানুষের মনে পুনরায় নতুন অভাবের সৃষ্টি হয়, ফলে প্রেষণা চক্রাকারে অবিরাম চলতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জারিন তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ডগলাস ম্যাকগ্রেগরের প্রেষণাসংক্রান্ত 'X এবং Y তত্ত্বের' সাথে কর্মীদের আচরণের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
মনোবিজ্ঞানী ডগলাস ম্যাকগ্রেগর মানুষের আচরণকে দুটি বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করেছেন—এক্স তত্ত্ব (Theory X) এবং ওয়াই তত্ত্ব (Theory Y)। এক্স তত্ত্ব অনুযায়ী কর্মীরা স্বভাবতই কাজ অপছন্দ করে, ফাঁকিবাজ, দায়িত্ব এড়িয়ে চলে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা ভীতি প্রদর্শন ছাড়া কাজ করতে চায় না। অন্যদিকে, ওয়াই তত্ত্ব অনুযায়ী কর্মীরা কাজকে খেলাধুলা বা বিশ্রামের মতো স্বাভাবিক ও আনন্দের বিষয় মনে করে, কাজের প্রতি আন্তরিক থাকে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উৎপাদন বিভাগের কর্মীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে ও মনোযোগ সহকারে কাজ করছে, যা ইতিবাচক মনোভাবের প্রতীক এবং তা 'ওয়াই তত্ত্বের' সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরপক্ষে, প্যাকেজিং বিভাগের কর্মীরা কাজ না করে খোশগল্পে মত্ত ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে, যা কর্মীদের নেতিবাচক মনোভাবের পরিচায়ক এবং এটি 'এক্স তত্ত্বের' সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, জারিন প্লাস্টিক কারখানার কর্মীদের আচরণে ম্যাকগ্রেগরের X ও Y তত্ত্বের প্রতিফলন বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিনের কর্মকর্তাদের ডেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও সতর্ক করার ফলে কর্মীদের আচরণ ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
উদ্দীপকে জারিন প্লাস্টিক কারখানায় প্যাকেজিং বিভাগের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা ও অলসতা প্রত্যক্ষ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ডেকে কাজের সুষ্ঠু তদারকির নির্দেশনা দেন এবং সবাইকে সতর্ক করেন। এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানে নিম্নরূপ পরিবর্তনসমূহ ঘটবে:
১. জবাবদিহিতা ও নিয়মানুবর্তিতা বৃদ্ধি: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশনা ও সতর্কতার ফলেPackaging বিভাগের দায়িত্বহীন ও ফাঁকিবাজ কর্মীরা সতর্ক হবে। তারা বুঝতে পারবে যে তাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রয়েছে, ফলে কাজের ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে।
২. কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি: তদারকি জোরদার হওয়ার কারণে অলস কর্মীরা খোশগল্প পরিহার করে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হবে, ফলে উৎপাদন বিভাগের মতো প্যাকেজিং বিভাগের কাজের গতিও বৃদ্ধি পাবে।
৩. সমন্বয়ের উন্নয়ন: উৎপাদন বিভাগ ও প্যাকেজিং বিভাগের কাজের মধ্যে সুষ্ঠু ভারসাম্য ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা: কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত হলে প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।তবে কেবল সতর্কতা ও কড়াকড়ির পাশাপাশি কর্মীদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা এবং যথাযথ প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব বাড়বে। সামগ্রিকভাবে, জারিনের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানের শিথিল পরিবেশ দূর হবে এবং কর্মীদের মধ্যে কর্মস্পৃহা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও