পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রহমান সাহেব একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি তার ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার দলের বার্ষিক সম্মেলনে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তার রাজনৈতিক দলটি এ প্রস্তাব সংশোধন করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে।
- ক)(1)
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট লেখ।
- গ)(3)
রহমান সাহেবের পেশকৃত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের মধ্যে "স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহত ছিল"- তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত গণহত্যার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, দিকনির্দেশনা প্রদান, বিশ্ব জনমত গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সাহায্য লাভের জন্য একটি বৈধ সরকারের তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের দ্বারা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়ায় (বর্তমান মুজিবনগর) বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা 'মুজিবনগর সরকার' গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রহমান সাহেবের পেশকৃত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক ১৯৪০ সালের 'লাহোর প্রস্তাব'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমান সাহেব তাঁর ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলীয় সম্মেলনে এমন একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল; কিন্তু পরবর্তীতে তা সংশোধন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে রূপ দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি পেশ করেন, যা লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই মূল প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মুসলিম লীগের আইনপ্রণেতাদের সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 'States' শব্দের পরিবর্তে 'State' শব্দটি বসিয়ে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রস্তাব হিসেবে এটিকে সংশোধন করেন। সুতরাং, রহমান সাহেবের প্রস্তাবটি মূলত ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই "স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল"— উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপিত মূল লাহোর প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব বাংলা নিয়ে একটি পৃথক ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রূপরেখা এই প্রস্তাবেই প্রথম স্বীকৃতি পায়।
২. স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার: প্রস্তাবে অঙ্গরাজ্যগুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনাকে ধারণ করে।
৩. জিন্নাহর কূটকৌশল ও বাঙালির ক্ষোভ: ১৯৪৬ সালে দিল্লির কনভেনশনে মূল প্রস্তাবের ব্যত্যয় ঘটিয়ে জিন্নাহ যখন প্রতারণামূলকভাবে 'States'-এর স্থানে 'State' প্রতিস্থাপন করে একক পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করেন, তখন থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে।
৪. স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ শুরু করে। এর বিরুদ্ধে বাঙালিরা যখনই আন্দোলন গড়ে তোলে—যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ছেষট্টির ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন—প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকেই মূল যুক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
অতএব, লাহোর প্রস্তাবের স্বাধিকার ও পৃথক রাষ্ট্রের ধারণাই পরবর্তীতে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাতে মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও