সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"ধাঁ করে একটি ট্রাক যাচ্ছে ছুটে, আরোহী ক'জনচোখ বাঁধা, হাত বাঁধা আবছা মানুষ পাশে রাইফেলধারী পাঞ্জাবি সৈনিক। ছাত্র নই, মুক্তি সেনা নই কোনোও, তবু হঠাৎ হ্যান্ডস আপ বলেস্টেনগান হাতে আর প্রশ্ন দেয় ছুড়ে ঘাড় ধরে- বাঙালিহো তুম"?
- ক)(1)
মিলিটারি পান্ডা কোথায় বসেছিল?
- খ)(2)
নুরুল হুদার কাছে কোন বিষয়টি 'স্রেফ উৎপাত' বলে মনে হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'চোখ বাঁধা, হাত বাঁধা আবছা মানুষ' বলতে 'রেইনকোট' গল্পে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মিলিটারিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের ছবি যেন 'রেইনকোট' গল্পের প্রতিচ্ছবি- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিলিটারি পান্ডা প্রিন্সিপালের চেয়ারে বসেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নুরুল হুদার কাছে বৃষ্টির কারণে মিলিটারির তল্লাশি বা আক্রমণ বন্ধ থাকাকে একটি ভুল স্বস্তি মনে হওয়ায় এবং পরক্ষণেই আবার বিপদের আশঙ্কায় ভোগার কারণে একে 'স্রেফ উৎপাত' বলে মনে হয়।
'রেইনকোট' গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভীতিকর পরিবেশে সবসময় ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করত। বর্ষার দিনে বৃষ্টি নামলে হয়তো মিলিটারির আক্রমণ বা তৎপরতা কিছুটা শিথিল হবে— এই ক্ষণিক আশ্বাসের পাশাপাশি মিলিটারিদের হাতে ধরা পড়ার আতঙ্ক তার মনে সর্বক্ষণ বিরাজ করত। এই অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক এবং বৃষ্টির বাস্তব বিড়ম্বনা তার কাছে কেবল এক উৎপাত বলেই মনে হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'চোখ বাঁধা, হাত বাঁধা আবছা মানুষ' বলতে 'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বন্দি ও নির্যাতিত নিরীহ বাঙালি তথা মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মুক্তিকামী মানুষদের (বিশেষ করে কলেজের আলমারি বহনকারী কুলিদের এবং নুরুল হুদার মতো বন্দিদের) বোঝানো হয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, কলেজের জিমনেসিয়ামে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের পর পাকিস্তানি বাহিনী সাধারণ মানুষ ও কলেজের স্টাফদের সন্দেহবশত ধরে এনে নির্মম নির্যাতন চালায়। কলেজের আলমারি নামানোর জন্য নিয়ে আসা চারজন কুলি এবং পরবর্তীতে কলেজের রসায়নের প্রভাষক নুরুল হুদাকে চোখ-হাত বেঁধে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।
উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, দ্রুতগামী একটি ট্রাকে চোখ বাঁধা, হাত বাঁধা কিছু বাঙালিকে বন্দুকের নলের মুখে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গল্পে পাকিস্তানি সেনারা যেভাবে নিরীহ মানুষদের মুক্তিযোদ্ধা সন্দেহে বন্দি করে অত্যাচার করত, উদ্দীপকের ওই পঙক্তিগুলো সেই বন্দি বাঙালিদের নির্মম বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাকিস্তানি মিলিটারিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালি নিধনের যে চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে, তা ভাবগত ও বাস্তবতার দিক থেকে 'রেইনকোট' গল্পের মূল পটভূমির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
'রেইনকোট' গল্পে ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদারদের ভয়াল ও নিষ্ঠুর রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। তারা সাধারণ শান্তিপ্রিয় বাঙালিদের সন্দেহের চোখে দেখত এবং যাকে-তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করত। নুরুল হুদাকে কলেজ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর খোঁজ জানার নামে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেত মারা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতনের রূপ। এমনকি বাঙালি কুলিদেরও তারা ছাড় দেয়নি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোনো অপরাধ বা স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই 'বাঙালি' পরিচয় পাওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষদের চোখ-হাত বেঁধে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের ওপর অস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। শুধু বাঙালি হওয়ার অপরাধেই মিলিটারিদের এই বর্বর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হতে হয়েছিল তৎকালীন মুক্তিকামী জনতাকে।
সুতরাং, উদ্দীপক এবং 'রেইনকোট' গল্প উভয় স্থানেই পাকিস্তানি হানাদারদের চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিনা কারণে নিরীহ বাঙালির ওপর আক্রমণ এবং বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের একই চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও