ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    (حَسَدٌ) হিংসা কী?

    (1)
  2. খ)

    ইমানের শাখা-প্রশাখা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    প্রদত্ত ছকের শূন্যস্থানের হাদিসটি কোন বিষয়ক ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রদত্ত ছকের হাদিসটি মানবজীবনে কী শিক্ষা বয়ে আনে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বা উন্নতি দেখে অন্তরে ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা অনুভব করা এবং তার সেই নেয়ামত বা মঙ্গল বিনষ্ট হওয়ার কামনা করাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘হাসাদ’ (হিংসা) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইমানের শাখা-প্রশাখা বলতে ইমানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সৎকর্ম, নৈতিক গুণাবলি ও দৈনন্দিন আমলকে বোঝায়। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, "ইমানের সত্তরেরও অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া; আর লজ্জাশীলতা হলো ইমানের একটি বিশেষ শাখা" (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, অন্তরে বিশ্বাসের পাশাপাশি জিহ্বা দিয়ে তা প্রকাশ এবং দৈনন্দিন জীবনে ভালো কাজ ও চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোই হলো ইমানের শাখা-প্রশাখা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রদত্ত ছকের শূন্যস্থানের হাদিসটি ইসলামের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ (আরকানুল ইসলাম) বিষয়ক।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে পাঁচটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: সাক্ষ্য প্রদান (কালিমা/তাওহিদ ও রিসালাত), সালাত কায়েম, যাকাত প্রদান, হজ পালন এবং সাওম পালন। এই বিষয়গুলো সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ১. এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, ২. সালাত কায়েম করা, ৩. যাকাত প্রদান করা, ৪. হজ পালন করা এবং ৫. রমাদানের সাওম বা রোজা রাখা।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

    সুতরাং, ছকের প্রশ্নবোধক চিহ্নে ইসলামের বুনিয়াদ বা স্তম্ভের হাদিসটি নির্দেশ করা হয়েছে, যা একজন মুসলিমের দ্বীন ও ইবাদতের সামগ্রিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রদত্ত ছকের হাদিসটি মানবজীবনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক শিক্ষা বয়ে আনে। এটি একজন মুমিনের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবন গঠনের মূল দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

    ১. তাওহিদ ও রিসালাতের বিশ্বাস: সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে মানুষ একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং রাসুল (সা.)-এর আনুগত্যকে জীবনের মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করে, যা তাকে শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত রাখে।

    ২. শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধি: দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মানুষকে সময়নিষ্ঠা, পরিচ্ছন্নতা, একনিষ্ঠতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।

    ৩. সহানুভূতি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য: যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে, ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয় এবং সম্পদ সমাজের সর্বত্র আবর্তিত হয়।

    ৪. আত্মসংযম ও সহানুভূতিশীলতা: রমাদানের সাওম মানুষকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট বোঝার সুযোগ দেয়, যা তাকে সংযমী, ধৈর্যশীল এবং সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে।

    ৫. বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সাম্য: হজ বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য নিদর্শন। এটি ধনী-গরিব, সাদা-কালো ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একই কাতারে এনে দাঁড় করায়।

    পরিশেষে বলা যায়, ছকে উল্লিখিত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক চরিত্রের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয় এবং একটি শান্তিময়, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন