যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষক সাভার মিয়া বর্ষাকাল মাঠেগিয়ে দেখলেন যে, স্যালো মেশিন ছাড়াই তার জমিতে অবস্থিত বোরিং থেকে অনবরত পানি উঠছে। তিনি ঘাবড়ে গিয়ে ভাবলেন এটি একটি ভৌতিক ঘটনা। বাড়িতে ফিরে কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযাগ করলে তিনি বলেন- ভুঅভ্যন্তরে পানির অতিরিস্ত চাপের কারণে এমনটি ঘটছে।
- ক)(1)
অন্তর্ভুত্তি কী?
- খ)(2)
"মানুষের বোধ শক্তির পরিতৃপ্তিই হচ্ছে ব্যাখ্যা"- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকটিতে যে বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে তার ২টি সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে কৃষি কর্মকর্তার মতামত ও কৃষকের ভাবনার পার্থক্য নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কম ব্যাপক নিয়মকে অপেক্ষাকৃত অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ্যায় অন্তর্ভুক্তি বা অন্তর্ভুক্তি পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দুর্বোধ্য, জটিল বা রহস্যময় ঘটনাকে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাই হলো ব্যাখ্যা। মানুষের মন সহজাতভাবেই কৌতূহলী। যখনই কোনো অজানা বা অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হয়, তখন তার কার্যকারণ সম্পর্ক জানার আগ্রহ তৈরি হয়। ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হয়, যার ফলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বা জ্ঞানের ক্ষুধা নিবৃত্ত হয়। এজন্যই বলা হয়, মানুষের বোধশক্তির পরিতৃপ্তিই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে যুক্তিবিদ্যার 'ব্যাখ্যা' (Explanation) বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যেখানে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার দুটি ভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে। সব বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়; ব্যাখ্যার কিছু সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে দুটি সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পরম বা মৌলিক গুণের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না: যেসকল গুণ মৌলিক বা সরল, যেমন—মিষ্টতা, তিক্ততা, লালিমা বা রঙের অনুভূতি—সেগুলোকে অন্য কোনো সরলতর ধারণায় বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। ফলে এগুলোর কোনো যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
২. চেতনা বা মনের মৌলিক অবস্থার ব্যাখ্যা অসম্ভব: আনন্দ, দুঃখ, ভয় ইত্যাদি মৌলিক মানসিক অনুভূতিগুলোকে অন্য কোনো নিয়মের অধীনে নিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এগুলো সরাসরি অনুভূত বিষয় হওয়ায় এদের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ ব্যাখ্যা করা মানুষের পক্ষে সীমাবদ্ধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষকের ভাবনা হলো 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং কৃষি কর্মকর্তার মতামত হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'। যুক্তিবিদ্যার আলোকে এদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:
১. স্বরূপগত পার্থক্য: কৃষক সাভার মিয়া প্রাকৃতিক ঘটনাটিকে না বুঝে অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক শক্তির ওপর আরোপ করে একে 'ভৌতিক ঘটনা' মনে করেছেন। এটি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে কুসংস্কারাচ্ছন্ন লৌকিক ব্যাখ্যা। অন্যদিকে, কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাটির পেছনে ভূ-অভ্যন্তরে পানির অতিরিক্ত চাপের কারণ নির্দেশ করেছেন, যা কার্যকারণ নিয়মভিত্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান না করে বাহ্যিক সাদৃশ্য বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও পরীক্ষণ-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাস্তব কারণ নির্দেশ করা হয়।
৩. যাচাইযোগ্যতা: কৃষকের ধারণা কল্পনাপ্রসূত হওয়ায় তা কোনোভাবেই প্রমাণ বা যাচাই করা সম্ভব নয়। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া কারণটি ভূতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে প্রমাণ ও পরীক্ষণযোগ্য।
৪. সার্বজনীনতা: লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এর কোনো বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তি নেই। অপরপক্ষে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ, সুসংগত এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।
অতএব, কৃষকের ভাবনাটি কুসংস্কার ও অজ্ঞতাপ্রসূত লৌকিক ব্যাখ্যা এবং কৃষি কর্মকর্তার মতামতটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিগ্রাহ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও