সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

১০ মার্চ, ১৯৭১। রাস্তায় রাস্তায় পাকিস্তানি মিলিটারি। গুয়াতলী গ্রামের হিন্দু জনগোষ্ঠী ভয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। শুধু ভিটে আঁকড়ে পড়ে থাকে কেষ্ট বাবু। পাশের গ্রামে ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। স্থানীয় রাজাকার কাশেম মোড়ল কেষ্টবাবুকে সন্দেহের চোখে দেখে। সে মনে করে কেষ্টবাবু মুক্তিবাহিনীর লোক। এক বৃষ্টিমুখর দিনে গুয়াতলী গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করে এবং কাশেম মোড়লের ইশরায় হানাদার বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে জীবন্ত পুঁতে রেখে চলে যায়।

  1. ক)

    ‘রেইনকোট’ গল্পটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    “রাশিয়ার ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মনসুন।” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কেষ্টবাবু ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? বুঝিয়ে দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।”উক্তিটির সত্যতা যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তীব্র শীত যেভাবে রাশিয়ানদের সাহায্য করেছিল, ১৯৭১ সালে আমাদের প্রবল বর্ষা তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছিল বলে মন্তব্যটি করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চরম শৈত্যপ্রবাহের ('জেনারেল উইনটার') মুখোমুখি হয়ে হিটলারের অপরাজেয় জার্মান বাহিনী রাশিয়ায় চরম বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল। ঠিক তেমনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অবিশ্রান্ত বর্ষা ও কাদা-জল (‘জেনারেল মনসুন’) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় ভৌগোলিক পরিবেশের সুবিধা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীকে কোণঠাসা করে ফেলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কেষ্টবাবু ‘রেইনকোট’ গল্পের কলেজের পিওন ‘ইসহাক মিয়া’ নয়, বরং গল্পের শহীদ এবং নির্যাতিত মুক্তিকামী বাঙালি ও কুলির চরিত্র কিংবা বিশেষ করে শহীদ মিন্টুর পরোক্ষ উপস্থিতি ও সাধারণ নিরীহ বাঙালিদের বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার দিকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়; তবে সরাসরি গল্পের প্রেক্ষাপটে নিপীড়িত সাধারণ হিন্দু ও বাঙালিদের করুণ পরিণতিই এতে মূর্ত হয়েছে।

    ‘রেইনকোট’ গল্পে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের নিষ্ঠুরতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। গল্পে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনারা বাঙালিদের সন্দেহের চোখে দেখত এবং সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাত। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা বা তাদের সাহায্যকারী সন্দেহে যে কাউকে হত্যা করত।

    উদ্দীপকের কেষ্টবাবু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও দেশ ছাড়েননি, নিজের ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন। স্থানীয় রাজাকার কাশেম মোড়লের ইন্ধনে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা সন্দেহে জীবন্ত পুঁতে হত্যা করে। এই বর্বরতা ‘রেইনকোট’ গল্পে উল্লিখিত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর-রাজাকারদের হিংস্রতা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যার নারকীয় বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র”—উক্তিটি যথার্থ ও সত্য।

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্পের ক্যানভাস অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। গল্পে একাত্তরের অবরুদ্ধ ঢাকার থমথমে পরিবেশ, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা, রাজাকার ও প্রিন্সিপালদের চাটুকারিতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা তৎপরতা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিত্রিত হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র নুরুল হুদা একজন ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক হলেও মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর তাঁর মধ্যে এক অভাবনীয় দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়। মিলিটারির অমানুষিক নির্যাতনের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য প্রকাশ না করে বিজয়ের প্রতীকে পরিণত হন।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা, রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেষ্টবাবুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের একটি খণ্ড ও সীমিত দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু ‘রেইনকোট’ গল্পের মূল সুর—রেইনকোটকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, গেরিলা আক্রমণের চাঞ্চল্য, এবং অবরুদ্ধ জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে ওঠার মহাকাব্যিক রূপ উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

    সুতরাং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের একটি আংশিক বা খণ্ডচিত্র মাত্র, গল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন