বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তালতলা গ্রামের আশেপাশে কোনো মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় তিন কিলোমিটা দূরের স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালিয়া যেতে হয় মুশফিককে। উচ্চশিক্ষা শেষে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েও সেই বিগত দিনগুলোর কথা ভুলে যায়নি সে। অনেক দিন লেগে থেকে শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন পেয়ে অবশেষে নিজ গ্রামে মুশফিক একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। গ্রামের সজ্জন শহিদুল মাস্টার জায়গা দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন।

  1. ক)

    'ধান দিয়া কী হইব মানুষের জান যদি না থাকে।'-উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    'ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পিরের মাজার?'-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যানের কোন চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "মজিদের কূটকৌশলের কারণে উদ্দীপকের তালতলা গ্রামের মতো 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ধান দিয়া কী হইব মানুষের জান যদি না থাকে।'—উক্তিটি রহিমা-র।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা মজিদের অন্তরের নিগূঢ় শঙ্কা ও ভণ্ডামির গোপন সত্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    মহব্বতনগর গ্রামের যে কবরটিকে মজিদ 'মুদাচ্ছির পিরের মাজার' ঘোষণা করে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, প্রকৃতপক্ষে সেটি কার কবর মজিদ নিজেও তা জানত না। গ্রামবাসী ছিল অন্ধবিশ্বাসী ও অজ্ঞ। তারা কখনোই এই সত্য উদঘাটন করতে পারবে না জেনেও মজিদের ভেতরে একটি সুপ্ত ভয় ছিল যে তার মিথ্যার মুখোশ হয়তো কোনোদিন উন্মোচিত হয়ে যেতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের প্রগতিশীল ও শিক্ষানুরাগী চরিত্র আক্কাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

    'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস শহরের আলো-বাতাসে বড় হয়ে গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। সে উপলব্ধি করেছিল যে গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা দূর করতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন। গ্রামের যুবকদের সংগঠিত করে সে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    উদ্দীপকের মুশফিকও নিজে বহু কষ্টে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজ গ্রামে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সচেষ্ট হয়। সরকারি অনুমোদন সংগ্রহ করে এবং শহিদুল মাস্টারের সহযোগিতায় গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলে। মুশফিকের এই শুভ উদ্যোগ ও শিক্ষানুরাগ 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাকেই বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মজিদের কূটকৌশলের কারণে উদ্দীপকের তালতলা গ্রামের মতো 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    শিক্ষা মানুষের মনের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করে যুক্তিবাদী চেতনার জন্ম দেয়। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ভণ্ডামির ওপর প্রতিষ্ঠিত শক্তির প্রধান শত্রু হলো আধুনিক শিক্ষা ও সচেতনতা।

    'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস যখন মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তখন মজিদ বুঝতে পারে যে গ্রামে আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ঘটলে তার মাজারকেন্দ্রিক ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক একচ্ছত্র আধিপত্য চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সে অত্যন্ত সুচতুর কূটকৌশলে গ্রামের মাতব্বর ও ধর্মভীরু মানুষকে উসকে দেয়। মজিদ আক্কাসের মুখে দাড়ি না থাকার বিষয়টিকে ধর্মের অবমাননা হিসেবে তুলে ধরে এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার চেয়ে মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বড় করে দেখিয়ে আক্কাসকে কোণঠাসা ও অপমানিত করে। ফলে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার মহৎ স্বপ্ন ভেঙে যায়।

    বিপরীতে, উদ্দীপকের তালতলা গ্রামে মজিদের মতো কোনো স্বার্থান্বেষী ভণ্ড ধর্মীয় শক্তির প্রতিবন্ধকতা ছিল না বলেই মুশফিক সজ্জন ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সুতরাং, মজিদের স্বার্থান্ধ কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের কারণেই যে মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, তা নিশ্চিতভাবেই সত্য ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন