যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: একটি গাছকে শেকড়, কান্ড, পাতা, ফুল ও ফলে বিভক্তিকরণ।দৃষ্টান্ত-২: একটি আনারসকে তার স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ ইত্যাদিতে বিভক্তিকরণ।
- ক)(1)
অতিব্যাপক বিভাগ কাকে বলে?
- খ)(2)
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে একই সময় একটি মাত্র মূলসূত্র গ্রহণ করতে হয় কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১ এ বিভাগের কোন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং কী ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
যৌক্তিক বিভাগের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ এর তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভাজ্য জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থের সমষ্টি বেশি হলে তাকে অতিব্যাপক বিভাগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মানুসারে, যৌক্তিক বিভাগে সর্বদা একটি মূলসূত্র বা নীতি গ্রহণ করতে হয়। একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করলে একই সাথে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিভাগ পরিচালিত হয়ে বিভাগটি ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং সেখানে ‘সঙ্কীর্ণ বিভাগ’ বা ‘পরস্পরাঙ্গী বিভাগ’ অনুপপত্তি ঘটে। বিভাজ্য শ্রেণিগুলোকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও স্পষ্ট রাখতে একটি সময়ে কেবল একটি মূলসূত্র ব্যবহার করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এর ফলে ‘অঙ্গগত বিভাগ’ (Physical Division) অনুপপত্তি ঘটেছে।
যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মানুযায়ী, একটি জাতিকে সর্বদা তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করতে হয়, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিভক্ত করা যায় না।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ একটি গাছকে (যা একটি একক বস্তু) তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন—শেকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফলে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি কোনো জাতিগত বিভাগ নয়, বরং একটি বিশেষ বস্তুকে বাস্তবভাবে বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অমান্য করে বস্তুকে তার অঙ্গে বিভক্ত করায় এটি অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ উভয়ই অনুপপত্তিপূর্ণ বিভাগ, তবে তাদের প্রকৃতি ভিন্ন। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. দৃষ্টান্ত-১ এ একটি গাছকে শেকড়, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদিতে ভাগ করা হয়েছে। এটি হলো ‘অঙ্গগত বিভাগ’ (Physical Division)। যৌক্তিক বিভাগের নিয়মানুযায়ী কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করা যায় না। এখানে একটি অখণ্ড বস্তুর শারীরিক বা বাহ্যিক অংশগুলোকে আলাদা করা হয়েছে।
২. অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-২ এ একটি আনারসকে তার স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ ইত্যাদি গুণাবলিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি হলো ‘গুণগত বিভাগ’ (Metaphysical Division)। একটি বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্যে ভাগ করাও যৌক্তিক বিভাগ নয়। যৌক্তিক বিভাগের নিয়মানুযায়ী কেবল জাতিবাচক পদকে তার উপজাতিসমূহে ভাগ করতে হয়, কোনো বস্তুকে তার গুণে বিভক্ত করা চলে না।
তুলনা ও বৈসাদৃশ্য:
- দৃষ্টান্ত-১ এর ভিত্তি হলো বস্তুর প্রত্যক্ষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যা বাহ্যিক ও দৃষ্টিগোচর বিভাজন।
- দৃষ্টান্ত-২ এর ভিত্তি হলো বস্তুর অভ্যন্তরীণ বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণাবলি, যা মানসিক বা বিশ্লেষণমূলক পৃথকীকরণ।
- উভয় ক্ষেত্রেই যৌক্তিক বিভাগের সাধারণ নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে; কারণ কোনোটিতেই একটি জাতিকে তার অন্তর্গত উপজাতিগুলোতে বিভক্ত করা হয়নি।
সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ অঙ্গগত বিভাগ এবং দৃষ্টান্ত-২ গুণগত বিভাগ নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও