উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব কামরান কম্পিউটার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। তিনি আমদানিসহ অন্যান্য ব্যয়ের সাথে ৩০% টার্গেট মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করে বিপুল পরিমাণে মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি পুরাতন মডেলের কিছু কম্পিউটারের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় তা বিক্রয়ের লক্ষ্যে আগ্রহী ক্রেতাদের পরিদর্শন সাপেক্ষে যে মূল্যে ক্রয় করতে ইচ্ছুক তা লিখিতভাবে জমাদানের আহবান জানিয়েছেন।

  1. ক)

    মূল্য কী?

    (1)
  2. খ)

    “অযাচিত পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য ব্যক্তিক বিক্রয় গুরুত্বপূর্ণ” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে তা উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি পুরাতন মডেলের কম্পিউটার বিক্রির জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পণ্য বা সেবা লাভের বিনিময়ে ক্রেতা যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করে, তাকে মূল্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অযাচিত পণ্য হলো এমন পণ্য যার সম্পর্কে সম্ভাব্য ক্রেতা অবগত নয় অথবা অবগত হলেও সাধারণত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রয়ের চিন্তা করে না।

    যেমন—জীবন বীমা পলিসি, নতুন উদ্ভাবিত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ইত্যাদি। এ জাতীয় পণ্যের জন্য ক্রেতারা নিজে থেকে দোকানে যায় না। তাই বিক্রয়কর্মীদের সরাসরি ক্রেতার মুখোমুখি হয়ে পণ্যের প্রয়োজনীয়তা, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও উপযোগিতা বুঝিয়ে পণ্য ক্রয়ে প্ররোচিত করতে হয়। ব্যক্তিক বিক্রয়ের মাধ্যমে বিক্রয়কর্মী ক্রেতার সংশয় ও আপত্তির তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারেন। এজন্য অযাচিত পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যক্তিক বিক্রয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণে ‘ব্যয়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ’ কৌশলের অন্তর্গত ‘টার্গেট রিটার্ন বা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মুনাফা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ (Target Return Pricing) অবলম্বন করেছে।

    ব্যয়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে পণ্যের উৎপাদন, আমদানি বা সংগ্রহের মোট খরচের ওপর ভিত্তি করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে টার্গেট রিটার্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান তার বিনিয়োগ বা মোট ব্যয়ের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে বা অঙ্কে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে পণ্যের মূল্য ঠিক করে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিক্রয় ব্যবস্থাপক জনাব কামরান আমদানিসহ অন্যান্য ব্যয়ের সাথে ৩০% টার্গেট মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করেন। এখানে ব্যয়ের সাথে সরাসরি কাঙ্ক্ষিত মুনাফার হার (৩০%) যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং, এটি ব্যয়ভিত্তিক বা টার্গেট মুনাফাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি পুরাতন মডেলের কম্পিউটার বিক্রির জন্য ‘সিল্ড-বিড’ বা ‘দরপত্র/টেন্ডারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ’ (Sealed-bid Pricing) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।

    যখন কোনো পণ্যের চাহিদা কমে যায় বা তা পুরনো হয়ে মজুদ আটকে থাকে, তখন প্রচলিত নির্দিষ্ট মূল্যে পণ্য বিক্রয় কঠিন হয়ে পড়ে। দরপত্রভিত্তিক বা বিডিং পদ্ধতিতে ক্রেতাদের পণ্য দেখে তাদের পছন্দসই মূল্য লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয় এবং সর্বোচ্চ বা গ্রহণযোগ্য দরদাতাকে পণ্য প্রদান করা হয়।

    উদ্দীপকে পুরাতন মডেলের কম্পিউটারগুলোর চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় তা সাধারণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল না। জনাব কামরান আগ্রহী ক্রেতাদের কম্পিউটারগুলো পরিদর্শন করে তারা যে মূল্যে ক্রয় করতে ইচ্ছুক তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক দিকগুলো নিম্নরূপ:
    ১. তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের দ্রুত মডেল পরিবর্তনের কারণে পুরাতন মডেল ফেলে রাখলে তা সম্পূর্ণ অপ্রচলিত (obsolete) হয়ে মূলধন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
    ২. দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রেতারা উন্মুক্ত বা লিখিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, ফলে সম্ভাব্য সর্বোত্তম বাজারমূল্যে পণ্যগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
    ৩. এতে গুদাম ভাড়া বাঁচে এবং মূলধন মুক্ত হয়ে নতুন ও লাভজনক পণ্যে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    অতএব, লোকসান সর্বনিম্ন করে মূলধন ফেরত আনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি ফলপ্রসূ ও যৌক্তিক হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন