ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
পার্বত্য চট্টগ্রামের পশ্চিম পার্শ্বে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এ অঞ্চলে পাহাড়ের অবস্থানের কারণে এক বিশেষ বৃষ্টিপাত হয়। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে চাপের পার্থক্যজনিত কারণে গ্রীষ্মকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
- খ)(2)
নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ বিরাজ করে কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়গুলো থেকে সারা বছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট গতিতে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Planetary Winds) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। এছাড়া এ অঞ্চলে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি থাকায় বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রচুর থাকে, যা বায়ুর ঘনত্ব হ্রাস করে। একইসাথে পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে নিরক্ষরেখার নিকট বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিটকে যায়। এসব কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর নিম্নচাপ বিরাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঞ্চল অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সংঘটিত বৃষ্টিপাত হলো শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic rainfall)।
জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বায়ুপ্রবাহের গতিপথে কোনো পর্বত বা উঁচু ভূমির অবস্থান ঘটলে সেই বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। উপরে উঠে এ বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward side) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই ধরনের বৃষ্টিকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
উদ্দীপকের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বঙ্গোপসাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে। এ বায়ু যখন পাহাড় বা পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তখন তা পর্বতের গা বেয়ে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে প্রতিবাত ঢালে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বঙ্গোপসাগরে গ্রীষ্মকালে চাপের পার্থক্যজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হলো ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন। জনজীবনে এর বহুমুখী ও বিধ্বংসী প্রভাব রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জানমালের ক্ষতি: ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে ঘরবাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগের খুঁটি ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে কিংবা জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায়।
২. উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস: ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচণ্ড বায়ুর চাপে সমুদ্রের জলরাশি বিশাল ঢেউ আকারে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে, যা উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর জমি ও লোকালয় প্লাবিত করে।
৩. কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয়: সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি কৃষি জমিতে প্রবেশ করায় ফসলের বিপুল ক্ষতি হয় এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে দীর্ঘমেয়াদে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
৪. পানীয় জলের সংকট ও রোগব্যাধি: ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে সুপেয় পানির উৎসগুলো দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
৫. অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি: রাস্তাঘাট, কালভার্ট, মাছের ঘের এবং শিল্প-কারখানা ধ্বংস হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ধস নামে।
সুতরাং, গ্রীষ্মকালে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলসহ সমগ্র জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ও চরম ভোগান্তি ডেকে আনে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও