মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রীতা মনে করে তার স্মৃতি দুর্বল তাই সে পড়ালেখা মনে রাখতে পারে না। এমতাবস্থায় তার শিক্ষক তাকে স্মৃতি উন্নয়নের জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে বলেন।দৃশ্যকল্প-২: সরকার গরিব শিশুদের ক্লাসমুখী করার জন্য “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য” প্রকল্প চালু করে বেশ ভালো ফল পান ।

  1. ক)

    বিস্মৃতি কী ?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষণ ব্যতীত স্মৃতি অসম্ভব কেন ?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত শিক্ষণের শর্তটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ মনোবিজ্ঞানীর ইঙ্গিতকৃত কৌশলগুলোর মধ্যে চারটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পূর্বে অর্জিত কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষণকে মনে করতে বা পুনরুৎপাদন করতে না পারাকে বিস্মৃতি (Forgetting) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্মৃতি হলো পূর্বে শেখা কোনো বিষয় মনের মধ্যে ধরে রাখা এবং প্রয়োজনে তা পুনরুদ্রেক করার মানসিক প্রক্রিয়া। কোনো বিষয় মনে রাখার পূর্বশর্ত হলো সে বিষয়টি আগে শেখা বা অভিজ্ঞতা লাভ করা। কোনো তথ্য বা অভিজ্ঞতা যদি মস্তিষ্কে গৃহীত বা শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষিত না হয়, তবে তা মনে রাখার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই বলা যায়, শিক্ষণ ব্যতীত স্মৃতির অস্তিত্ব অসম্ভব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত শিক্ষণের শর্তটি হলো 'পুরস্কার' বা 'শক্তি تقویت/বলবর্ধক' (Reinforcement/Reward)।

    মনোবিজ্ঞানে শিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রেষণা ও পুরস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কোনো আচরণের পর যদি অনুকূল উদ্দীপক বা পুরস্কার প্রদান করা হয়, তবে সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপক হিসেবে খাদ্য এখানে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক বলবর্ধক হিসেবে কাজ করেছে।

    উদ্দীপকে গরিব শিশুরা সাধারণত খাদ্যাভাব ও দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে যেত না। সরকার যখন তাদের জন্য 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু করল, তখন এই খাদ্য একটি কার্যকর পুরস্কার হিসেবে কাজ করে তাদের বিদ্যালয়মুখী হতে উৎসাহিত করেছে। ফলে শিক্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত আচরণটি সুদৃঢ় হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ রীতার স্মৃতি উন্নয়নের জন্য শিক্ষক যে কৌশলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তার মধ্যে চারটি প্রধান কৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অতিশিক্ষণ (Overlearning): কোনো বিষয় ঠিকমতো শেখার পরও তা বারবার অনুশীলন করাকে অতিশিক্ষণ বলে। কোনো পড়া কেবল একবার বা প্রয়োজনমাফিক না শিখে অতিরিক্ত চর্চা করলে তা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে স্থায়ী রূপ নেয় এবং সহজে বিস্মৃতি ঘটে না।

    ২. অর্থপূর্ণ শিক্ষণ (Meaningful Learning): মুখস্থ করার পরিবর্তে কোনো বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে পড়লে তা স্মৃতিতে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকে। অর্থবোধক উপাদানের সাথে পূর্বের জানা বিষয়ের সংযোগ ঘটিয়ে শিখলে সহজে মনে রাখা যায়।

    ৩. সবিরাম শিক্ষণ (Spaced/Distributed Practice): একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ না পড়ে মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়লে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। ফলে মস্তিষ্কে তথ্যের সংহতিকরণ (consolidation) ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং পড়া দীর্ঘ সময় মনে থাকে।

    ৪. আবৃত্তি বা স্ব-পাঠ (Recitation): কোনো বিষয় পড়ার পর বই বন্ধ করে তা নিজে নিজে স্মরণ করার চেষ্টা করা বা জোরে জোরে আওড়ানোকে আবৃত্তি বলে। এটি আত্মমূল্যায়নে সাহায্য করে এবং দুর্বল অংশগুলো চিহ্নিত করে স্মৃতিকে দৃঢ় করে।

    উপরোক্ত কৌশলগুলো নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে রীতা তার স্মৃতিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন